কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে মধু (৬০) নামের এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক সবজি বিক্রেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারের কবরস্থান মোড় ও মুচি বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মধু দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কার্পাসডাঙ্গা বাজারের কবরস্থান এলাকায় ফুটপাতে ভ্যানে করে ভ্রাম্যমাণভাবে বিভিন্ন ফল বিক্রি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুটপাতে দোকান বসানোসহ তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে মধুর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সবজি বিক্রেতা মামুনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মধুর ছেলে মোবাইল কেনার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা চেয়েছিলÑএ বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে বিরোধের সূত্রপাত, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় উত্তেজিত হয়ে সবজি বিক্রেতা মামুন মধুর বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শী আবু সাইদ বলেন, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তখন সবজি বিক্রেতা কদবেল কাটার কাজে ব্যবহৃত ধারালো লোহার শিক বা ছুরি দিয়ে মধুর বুকে আঘাত করেন। এতে মধু রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত মধুকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামসুজ্জোহা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মধুর মৃত্যু হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার বুকের ভেতরের একটি প্রধান শিরা কেটে যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর কার্পাসডাঙ্গা বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তুচ্ছ একটি বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে গড়াল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফুটপাতে সবজি ও ফল বিক্রেতার মধ্যে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও চলছে।


