নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিবন্ধিত ওষুধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগে চারটি ফার্মেসিকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফার্মেসিগুলো থেকে অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার একাডেমি মোড় ও পূর্ব কমলাপুর এবং আলমডাঙ্গা এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে এ অভিযান চালানো হয়। ঔষধ প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম। অভিযানে নকল, ভেজাল, আনরেজিস্টার্ড (অনিবন্ধিত), মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল জাতীয় ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণের বিষয়গুলো তদারকি করা হয়।
অভিযানে আইন লঙ্ঘনের দায়ে চারটি ফার্মেসির বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে সেবা কেয়ারকে ৩ হাজার টাকা, শরীফ ফার্মেসিকে ৩ হাজার টাকা, বিশ্বাস ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা এবং প্রিতম ফার্মেসিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে জরিমানার পরিমাণ ৯ হাজার টাকা। ঔষধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিবন্ধিত ওষুধ মজুত এবং বিক্রির জন্য রাখার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব অপরাধের দায়ে ‘ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন-২০২৩’-এর ৪০(খ), ৪০(গ) ও ৪০(ঘ) ধারায় চারটি মামলা করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন ফার্মেসিতে মজুত থাকা অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফার্মেসিতে অনুমোদিত ওষুধ সংরক্ষণ এবং যথাযথ নিয়ম মেনে বিক্রি করা জরুরি।
ঔষধ পরিদর্শক ইকরামুল করিম বলেন, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিবন্ধিত ওষুধ মজুত বা বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঔষধ প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা সহায়তা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।


