আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজআইন আদালতচুয়াডাঙ্গায় পরিবেশের ছাড়পত্র নেই ১৪০ ক্লিনিকের,  দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ

চুয়াডাঙ্গায় পরিবেশের ছাড়পত্র নেই ১৪০ ক্লিনিকের,  দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গা জেলায় নিবন্ধিত ১৮৪টি ক্লিনিকের মধ্যে ১৪০টির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৬টি ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে এবং ৪৪টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে। এদিকে, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকার ড্রেনেজব্যবস্থা সচল রাখা, মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক-উজ-জামানের সঞ্চালনায় সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন সহকারী কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, সড়কের নিরাপত্তা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় জানানো হয়, জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব গাছের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে আন্ডারপাসে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়টি সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। জেলায় ১৮৪টি ক্লিনিকের মধ্যে ১৪০টির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই বলে সভায় জানানো হয়। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে এবং ৪৪টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে। পরিবেশগত নিয়মকানুন মেনে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সভায় জেলার বিভিন্ন খালে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কচুরিপানা পরিষ্কারের পর তা ফেলে না দিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে জৈব সার তৈরির উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এ জন্য উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে একদিকে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য জৈব সার উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সভায় মত দেয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জেলায় বর্তমানে ডেঙ্গুর উপদ্রব বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ড্রেনেজ লাইনগুলোর ত্রুটি দ্রুত ঠিক করতে হবে। একই সঙ্গে মশক নিধন কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব ও ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। তাই এসব স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে সদর হাসপাতালে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা রোগীদের সুস্থতা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বর্তমানে একজন সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বেসরকারিভাবে চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নতুন করে ৫৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সরকারি সেবার মান বাড়ানো এবং আন্তদপ্তর সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মুক্ত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং সাংবাদিক বিপুল আশরাফসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সভায় জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে নাগরিক ভোগান্তি কমার পাশাপাশি জেলার সার্বিক সেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ