নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। ডোপ টেস্টে তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তিনজনকেই দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবি পাড়া গ্রামের মহিলা মাদ্রাসার সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের এসআই সাখায়েতুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সিঅ্যান্ডবি পাড়া গ্রামের ছাদ্দার মল্লিকের ছেলে ইকরামুল হাসান টিটু (৪২), মৃত হাশেম আলীর ছেলে স্বপন আলী কালু (২৬) এবং আলাউদ্দিন টিক্কার ছেলে সজিব হোসেন (২৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযান চলাকালে মহিলা মাদ্রাসার সামনে ওই তিনজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তারা পুলিশের সামনেই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। পরে তাদের আটক করে ডোপ টেস্ট করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল প্রসিকিউশনের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এদিকে একই বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ পৃথক একটি মামলার তদন্তে পাওয়া এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার হায়দারপুর এলাকা থেকে আমান (৩০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আমান হায়দারপুর গ্রামের মইনুল ইসলামের ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬ ও ১১৪ ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলার সব ইউনিটে মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সদর থানা-পুলিশের পক্ষ থেকেও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, মাদক সেবন ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্ট এবং তাৎক্ষণিক বিচারপ্রক্রিয়া আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ও মামলার তদন্তে পাওয়া আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।


