নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শাড়ি বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন বলেন, হিন্দু ও মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। এক সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো থাকবেন আর অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ কষ্টে থাকবেনÑএভাবে একটি দেশ ভালো থাকতে পারে না। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রুহুল আমিন বলেন, আপনারা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। আপনারা যদি ভালো থাকেন, মুসলমানরা যদি খারাপ থাকে, তাহলে কি দেশ ভালো চলবে? আবার মুসলমানরা ভালো থাকে, আপনারা যদি খারাপ থাকেন, তাহলে কি দেশ ভালো চলবে? আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে তিনি ৩০০টি শাড়ি পাওয়া গেছে, যার সবগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষেও ৩০০টি শাড়ি পেয়েছিলাম, সেগুলোও বিতরণ করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সমাজের অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সবার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদ সদস্য বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে। উৎসবের আনন্দ যেন কেবল সচ্ছল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজার আনন্দ অসচ্ছল পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে পাওয়া শাড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের এ ধরনের সহায়তা উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি উদ্যোগ।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার এবং জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি-২০২৬’র প্রধান সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আসিফ হায়দার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়, সে জন্য প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অনুষ্ঠান শেষে সদর উপজেলার ৫০ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শাড়ি বিতরণ করা হয়। উপহার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত উপকারভোগীরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন।


