নিজস্ব প্রতিবেদক:
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের গবড়গাড়া-বৃত্তিদাড়ি সড়কের দুই পাশে তিন হাজার তালবীজ রোপণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবতার জন্য সংস্থা। একই সঙ্গে পুরো জেলায় ৪০ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্যরা সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন। তাদের আশা, এসব বীজ থেকে ভবিষ্যতে তালগাছ বেড়ে উঠবে। এতে পরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মানবতার জন্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শাহিন সরকার বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই অন্তত একটি করে তালগাছ রোপণ করা উচিত। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, তালগাছ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেক কৃষক প্রাণ হারান। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাদের সংগঠন চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪০ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাত বাংলাদেশে প্রাণহানির অন্যতম প্রাকৃতিক ঝুঁকি। এ পরিস্থিতিতে তালগাছসহ পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণ এবং সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলো যেন বেড়ে উঠতে পারে, সে দায়িত্বও নিতে হবে।
কর্মসূচিতে মানবতার জন্য সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক আলামীন ও লিখন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মানবকল্যাণ সংস্থার সদস্য ইকরামুল হক, জিহাদ, শরীফুল, বাহাদুর, শরীফ, জামাল ও রাশেদসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, তালবীজ রোপণের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা। তবে রোপণ করা বীজের অঙ্কুরোদ্গম নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা, সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।


