আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজআইন আদালতজাসদ কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলার ২৮০ নেতাকর্মী আটক

জাসদ কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলার ২৮০ নেতাকর্মী আটক




ঢাকা অফিস:

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা ৩টা থেকে এ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা এসআই নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, ভেতরে প্রায় চারশর মতো ব্যক্তি আছে। তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বেলা ৩টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তিনতলায় গিয়ে জাসদ অফিসে এদের দেখে। এরা এখানে বৈঠক করছিল।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার আকতার হোসেন বিকালে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি ওই কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান হয়েছিল, আর ভেতরে একটি মিটিং চলছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের পল্টন থানায় নেয়া হয়েছে। এখনো আমাদের কার্যক্রম চলছে, পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে বেলা সাড়ে ৩টায় জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪০০ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা করার সময় দুপুর আড়াইটায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে। প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে। দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে বলতে দেখা যায়, এখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল। এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসবে কেন, একটা কিছু বলে আমাদের ওপর আক্রমণ করাটাই বিষয়। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমাদের এই সভার ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনারের কাছে মাইক ব্যবহারের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আমাদের কাছে সেই রিসিভ কপিও আছে। এখন পুলিশ বলছে, এটা নাকি গোপন বৈঠক।
শাহবাগ থানা যুবদলের সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন তপন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে ৫০০-৬০০ লোক নিয়ে এসে একটা গোপন বৈঠক করছে। দেশে জ্বালাও-পোড়াও করার জন্য, দেশকে আরো অস্থিতিশীল করার জন্য। আপনারা যে কিছুদিন যাবৎ দেখতেছেন বিভিন্ন জায়গায় জ্বালাও-পোড়াও করতেছে, বোমাবাজি করতেছে, এটা তারই অংশবিশেষ। আজকে তারা এখানে গোপন বৈঠকে বসছে।
যুবদল নেতা তপন বলতে থাকেন, এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমরা খবর পাইছি, এখানে গোপন বৈঠক বসতেছে। তারপরে আমাদের কিছু লোকজন এসে এর সত্যতা প্রমাণ পাইছে। পাওয়ার পরে ব্যাপকভাবে আমরা লোকজন নিয়ে এসে তাদেরকে ব্যারিকেড দিছি। প্রশাসনের লোকজনকে আমরা খবর দিছি। তারপরে তো আপনারা দেখতেই আছেন প্রশাসনের লোকজন তাদেরকে এক এক করে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত ৯৫ জনকে গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নেওয়া হইছে। এখনো আরো অনেক লোক এখানে বাকি আছে।
সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জাসদ কার্যালয় থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি কেন সেখানে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উনি জাসদ সমর্থক। সেজন্য দলের কার্যালয়ে এসেছিলেন।
অভিযানের সময় জাসদ কার্যালয়ের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার, নিপাত যাক, নিপাত যাক’, ‘আওয়ামী লীগের গুন্ডারা, হুঁশিয়ারÑসাবধান’, ‘যুবলীগের গুন্ডারা, হুঁশিয়ারÑসাবধান’, ‘রাজপথে নামিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘ভাঙচুর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’। অভিযানের সময় অনেকেই তাদের স্বজনদের খোঁজে জাসদ কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন। কিশোর বয়সি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আসেন মাঝ বয়সি এক নারী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, তার স্বামী জাসদ করেন। দলীয় সভায় এসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সাদিকুন নাহার স্নিগ্ধা নামের এক তরুণী নিজেকে এনসিপির গুলশান থানার মুখপাত্র দাবি করে বলেন, আমার বাবা রুহুল আমিন গাইবান্ধা থাকেন। গতকাল ঢাকায় এসেছেন। আগে জাসদ করতেন, এখন করেন না। বাবা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসে এই ঝামেলায় পড়েছেন। আমাকে ফোন করে জানালে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সন্ধ্যায় বলেন, জাসদের আড়ালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছে, এমন তথ্য পেয়ে আমরা আসি। এখানে বেশ কয়েক জনকে আমরা পেয়েছি। এদের প্রত্যেককে আমরা হেফাজতে নিয়েছি, যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাত দফায় প্রিজন ভ্যানসহ গাড়িতে করে ২৮০ ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনো জাসদ কার্যালয়ে পুলিশ হেফাজতে অনেককে দেখা যায়।
ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ‘ঝটিকা মিছিল থেকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগের একটি ব্যানারসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।’ পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ