জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর চান মিঞা (৫৫) ওরফে চান্দ আলী নামের এক ভ্যানচালকের মস্তকবিহীন ও পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের অদূরে চুয়াডাঙ্গা-কোটচাঁদপুর সড়কের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যানটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কী-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহত চান্দ আলী জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বালিগর্ত পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত জোনাব আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রতিদিনের মতো ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন চান্দ আলী। কিন্তু সেদিন আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তার খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন তারা। তবে কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত ভ্যানটিরও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পাঁচ দিন ধরে স্বজনদের উৎকণ্ঠার মধ্যে গতকাল সোমবার সকালে মেলে তার লাশের সন্ধান। স্থানীয় পথচারীরা শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের কাছাকাছি চুয়াডাঙ্গা-কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে একটি বিকৃত ও মস্তকবিহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিধেয় পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে তারা লাশটি চান্দ আলীর বলে শনাক্ত করেন। দীর্ঘ পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর তার এমন নৃশংস পরিণতির খবর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা চান্দ আলীকে হত্যা করে থাকতে পারে। পরে পরিচয় আড়াল করার উদ্দেশ্যে তার মস্তক বিচ্ছিন্ন করে লাশটি সড়কের পাশের নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভ্যান ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে কী-না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মস্তকবিহীন পচাগলা লাশটি উদ্ধার করে। আলামত দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ভ্যান ছিনতাই না-কী পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও চান্দ আলীর ব্যবহৃত ভ্যানটির সন্ধান না পাওয়া এবং তার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির মধ্য দিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।


