ঢাকা অফিস:
এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’। এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে কমিটি প্রতিবেদন তৈরির কাজও শুরু করেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়া হলে সেক্ষেত্রে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের শীতকালীন ও ইংরেজি নতুন বছর ২০২৭ এর প্রথম অধিবেশনেই আসতে পারে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল। বিশেষ কমিটির আশা, কমিটিতে নাম না দিলেও এবং মতবিনিময়ে না এলেও সংসদে বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নেবে বিরোধীদল। তবে, সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনতে হলে সেটি করতে হবে গণভোটের মাধ্যমে। সেসব সংশোধনীর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ১৪২ বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন এলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে। এমনকি নতুন সংশোধনীতে যুক্ত হতে যাওয়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ভবিষ্যতে পরিবর্তন করতে হলেও গণভোট লাগবে। নতুন সংশোধনীতে সেটি যুক্ত করা হচ্ছে। অবশ্য, ১৮তম সংশোধনীতে মৌলিক বা এধরনের কোনো সংশোধনী আনা হবে কিনা, যেটি করতে হলে গণভোটের প্রয়োজন হবে-সেবিষয়ে এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
গতকাল রবিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উপরোক্ত তথ্য জানান সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সূচনা বক্তব্যে তিনি জানান, কমিটি আগামীকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন নিউজপোর্টালের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। মতবিনিময়ে সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা সংবিধান সংশোধনীর এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে যুক্ত করতে প্রয়োজনে সরকারি দলকে আরো আন্তরিক ও উদার হওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব হ্রাস করা, বিচার বিভাগের সত্যিকারের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মতবিনিময়ের শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এখনও আশা করি বিরোধীদল বিশেষ কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেবে। যখনই দেবে তখনই আমরা তাদের স্বাগত জানাবো। জুলাই সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, বিশেষ কমিটি তাদের সঙ্গেও বসবে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, গুম-খুনের শিকারদের পরিবার, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, সাবেক বিচারপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদেরও মতামত নেবে বিশেষ কমিটি। মতামতগুলো সংকলিত করে পুস্তক আকারে বের করা হবে। আর বিশেষ কমিটি সংসদে যে প্রতিবেদন দেবে সেটি বিলের মতো করেই তৈরি করে দেবে। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয় সেখানে ভাষা ও শব্দগুলো ঠিকঠাক করে বিল আকারে সংসদে আনবে।
মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যেন এটিকে হাল্কাভাবে না নিই। কারণ ভবিষ্যতের অনেককিছু স্পষ্ট হবে এই সংশোধনীর মাধ্যমে। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদল নেই। এটা তাদের রাজনৈতিক ভুল, না থাকাটা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না। তাদের চিন্তামতো হয়নি বলে এখানে থাকবে না, এটা ঠিক না। তারা প্রতিবাদ করতেই পারেন, সেটা সংসদীয় রীতি। কিন্তু না আসার চর্চা, এটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না। মাহফুজ আনাম বলেন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে এত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যার কারণে এখানে ক্ষমতার ভারসাম্য বলতে কিছু নেই। এখানে কার্যত এমন কিছু নেই, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নেই। ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য এখানে ভারসাম্য আনা জরুরি। তার বক্তব্যের জবাবে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারসাম্য আনার জন্য যদি আপনার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকে তাহলে সেটি লিখিত দিলে উপকৃত হবো। এপর্যায়ে মাহফুজ আনাম বলেন, আপনারা যে নির্বাচনি ইশতেহার, ৩১ দফা ও জুলাই সনদে ভারসাম্যের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন সেজন্য অভিনন্দন জানাই। আপনারা বিচারবিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার কথাও বলেছেন, সেজন্যও অভিনন্দন। তবে, সত্যিকারের স্বাধীন দেখতে চাই আমরা। এছাড়া, সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জুলাই সনদে থাকা ছয়টি পদের মধ্যে আপনারা চারটি মেনেছেন। বাকি দুটো, অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অডিটর জেনারেলের নিয়োগের বিষয়টি মানেননি।
ডেইলি স্টার সম্পাদক আরো বলেন, এই যে আমাদের নির্বাহী মানসিকতা। একারণে বারবার আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হচ্ছি। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা। স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান দুটোই ফুল টাইম কাজ। পার্টিকে পরিশুদ্ধ হওয়ার সুযোগ দিতে একই ব্যক্তি উভয় পদে না থাকা ভালো। যেটা ভারতেও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে হওয়া উচিত। তা নাহলে তো নিম্ন আর উচ্চকক্ষের মধ্যে তেমন তফাৎ থাকবে না।
এর জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বলেছি সংবিধান সংশোধনের বিল উচ্চকক্ষে যাবে না। কারণ, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। অনির্বাচিতদের কাছে সংবিধান সংশোধনের মতো বিল যাওয়াটাকে আমরা সমীচীন মনে করি না। মাহফুজ আনাম তার বক্তব্যে দেশের জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, অতীতে আমরা বিভিন্ন আলোচনা দেখেছি। তবে, পরবর্তীতে সেগুলোর প্রতিফলন তেমন একটা দেখিনি। এবারের প্রক্রিয়াটা যেন সত্যিকারে আন্তরিক হয়।
মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, অতীতে দেখা গেছে এসব মতামতের শেষ পর্যন্ত কার্যকারিতা থাকে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সিদ্ধান্তেই মোটামুটি অটল থাকে। তিনি বলেন, বিরোধীদল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সব দল মিলে যদি সংশোধনী করতে না পারে, তাহলে শুরুতেই প্রশ্ন থেকে যায়। বিরোধীদলকে আনতে প্রয়োজনে আরো আলাপ-আলোচনা করুন। কারণ বড় সুযোগ সামনে এসেছে, সুতরাং তর্ক-বিতর্ক করে হলেও সম্মিলিতভাবে কাজটা করতে পারলে ভালো হবে। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন বিল মানুষ যেভাবে প্রত্যাশা করেছিল সেভাবে হয়নি। র্যাবের বিলটিও আমরা যেমন আশা করেছিলান, সেরকম হয়নি। সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে নিয়োগ দিতে পারলে ভালো। সেখানে যেন গ্রহণযোগ্য মানুষরা আসতে পারেন। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে করতে হবে। নিজেদের মতো করে করলে সংকট তৈরি হবে। আওয়ামী লীগ নিজেদের মতো সংশোধনী করেছে বলেই ফল ভালো হয়নি।
মতিউর রহমান বলেন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট আমাদের মতো দেশে আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও বড় প্রশ্ন। নাকি শুধু খরচ বাড়বে, সেটি ভেবে দেখা দরকার। সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়া উচিত। তাহলে কিছুটা ভারসাম্য হতে পারে।
ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য দরকার। নইলে রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়ণ অসম্ভব। মন্ত্রীদের যে শপথ পদ্ধতি সেটা পাকিস্তানি জমানার সামরিক শাসনের চিন্তা থেকে এসেছে। মন্ত্রিসভার অনেক সিদ্ধান্ত গোপন রাখা হয় এসব শপথের কারণে। কিন্তু এটা জনগণের সম্পদ। এরকম চিন্তা দিয়ে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নামে ‘প্রজাতন্ত্র’ শব্ধটি ধ্রুপদী গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব। রাজনীতি, প্রজাতন্ত- এজাতীয় শব্দের কারণে জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক সেটা তারা ভাবতে শেখেন না।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ’র সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল বলেন, আজ পর্যন্ত দেশের বড় কোনো সমস্যার সমাধান সংবিধান দিতে পারেনি। মৌলিক বা বড় যে কোনো সংকটের সমাধান এসেছে সংবিধানের বাইরে। তিনি বলেন, বিএনপি সংবিধানে যেসব সংশোধনের কথা তাদের ইশতেহারে উল্লেখ করেছে, জনগণ সেটাতে ম্যান্ডেট দিয়েছে। এখন বিএনপিও চাইলে সেখান থেকে বের হতে পারবে না। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি রাখতে হবে। কারণ, আমাদের গণতন্ত্র ও রাজনীতি এখনও সেরকম পরিণত নয়। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদও তার বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দৈনিক কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, আমি মনে করি সংবিধান সংশোধন বিলও উচ্চকক্ষে যাওয়া উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকেও অন্তর্ভুক্ত রাখা দরকার। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে যেন দলীয় সম্পৃক্ত কেউ না থাকেন। এছাড়া ক্ষমতার ভারসাম্য খুব প্রয়োজন। দৈনিক বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই সনদে ও সংবিধানে শিক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত। দেশ রূপান্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ শফি বলেন, বিরোধীদলকে এই প্রক্রিয়ায় আনতে সরকারকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। প্রায় অভিন্ন কথা বলেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ।
দৈনিক আমার দেশ’র যুগ্ম সম্পাদক এম. আব্দুল্লাহ বলেন, সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে যে বিষয়টা মনে রাখা দরকার সেটি হলো- ভবিষ্যতে বিএনপি বিরোধীদলে গেলেও যেন সংকটে না পড়তে হয়। জবাবে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলে গেলে কোনটা আমাদের জন্যও বিপদ হতে পারে, এবারের সংশোধনীকে সেটাই প্রধান বিবেচ্য।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কামাল আহমেদ বলেন, বিরোধীদলকে আনতে সরকারি দলকে আরো উদার হতে হবে। দৈনিক নয়াদিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনীর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। দৈনিক মানবকণ্ঠের সসম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় কি বাতিল হয়েছে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেটি বাতিল হয়নি। সেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হয়নি।
দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার শামছুদ্দীন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, সংবিধানে এমন কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে যেগুলো দূর করা জরুরি। যেমন সংবিধানের ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে দল থেকে পদত্যাগের কথা বলা হয়েছে। সেখানে ‘পদত্যাগ’ শব্দের সঙ্গে ‘বহিষ্কার’ শব্দটিও যুক্ত করা যায় কিনা, ভাবা যেতে পারে। এছাড়া সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়ে নৈতিক স্খলনের কারণে কিংবা ফৌজদারী অপরাধে অন্যূন দুই বছরের কারাদ্লের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, সেটি কী শুধু নিম্ন আদালতে, নাকি সর্বোচ্চ আদালতে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত; সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার। মতবিনিময়ে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহ. আলী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ বাদল, আব্দুল হাই সিদ্দিক, আব্দুল আজিজ, শফিকুল আলম, শাখাওয়াত লিটন, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, হারুন জামিল, শওকত হোসেন লিথো প্রমুখ।


