দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পূর্ববিরোধের জেরে তহমিনা নামের এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার গলা, পিঠ ও হাতে মোট ২৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাহারুল নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে দর্শনা থানার রেলবাজার এলাকার ফুলতলা বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার এজাহারকারী রুবেল আলীর অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে তার ফুফু তহমিনার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একত্র হয়ে তহমিনাকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তহমিনার মাথায় কোপ দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তার বাঁ হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর কেটে যায়। পরে আরেকজন মাথায় আঘাত করতে গেলে সেই আঘাত তার গলায় লাগে এবং সেখানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এরপর আরেক ব্যক্তি তার পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে পিঠেও গভীর রক্তাক্ত জখম হয়। হামলায় তহমিনা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় অন্য আসামিরা তাকে লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত তহমিনাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গলায় ১২টি, পিঠে ৬টি ও হাতে ৬টি সেলাই দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার শরীরে ২৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তহমিনাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ঘটনার বিস্তারিত জানার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর দর্শনা থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটির এফআইআর নম্বর ১৪ এবং জিআর নম্বর ১৬৫। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আহত তহমিনার ভাতিজা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় পাঠানপাড়ার পিয়ার আলীর ছেলে সাহারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


