দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলবাজারে জনসমক্ষে মিনা (৪০) নামের এক নারীকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় স্বপন (৫০), শাহারুল (৪০) ও জনি (২৫) নামের তিন ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার পর দর্শনা রেলবাজারের ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাজারটিতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ কেনাকাটা করতে আসছেন। এমন সময়ে জনসমক্ষে একজন নারীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় বাজারের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে দর্শনা রেলবাজার এলাকায় মিনার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় স্বপন, শাহারুল ও জনির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে আহত নারীর পূর্ববিরোধ ছিল কি না, তা-ও জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বপন ও জনির বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। শাহারুলের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকার পাশাপাশি অতীতে অস্ত্রসহ আটক হওয়ার তথ্যও স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সূত্রে জানা গেছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশি নথি বা মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রেলবাজার দর্শনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাজারটিতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। এ অবস্থায় জনসমক্ষে এমন হামলার ঘটনা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কী-না, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং আহত নারীর শারীরিক অবস্থা কেমনÑএসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


