দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদায় মাথাভাঙ্গা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য দেয়া কোমর-বাঁধ অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে বাঁশ, চাটাই ও বানা দিয়ে তৈরি এসব বাঁধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল রবিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সদর ও কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবলপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মাথাভাঙ্গা নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়। এ সময় বাঁধ নির্মাণে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি বিনষ্ট করা হয় এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন দামুড়হুদা মডেল থানা-পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাথাভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কিছু ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মাছ শিকারের জন্য অবৈধভাবে কোমর-বাঁধ তৈরি করে আসছিলেন। বাঁশ, চাটাই ও বানা ব্যবহার করে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে এসব বাঁধ দেয়া হয়েছিল। এতে নদীতে মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। পাশাপাশি নদীর বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরার এমন অবৈধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় ভোগান্তিতে পড়ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল নদীতে অভিযান শুরু করে। এ সময় নদীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা অবৈধ কোমর-বাঁধ শনাক্ত করে সেগুলো অপসারণ করা হয়। বাঁধ নির্মাণে ব্যবহৃত বাঁশ, চাটাই ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে বিনষ্ট করা হয়। তবে প্রশাসনের অভিযান শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ায় কাউকে পাওয়া যায়নি।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে এভাবে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য ক্ষতিকর। নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এলাকায় কেউ অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


