নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ১৭ বছর পর আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামি ইসমাইল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড বিনাশ্রম দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার জেলা ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের সোলাইমান আলীর ছেলে ও আবুল কালাম আজাদ একই গ্রামের মৃত আবুছদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝন্টু পানের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের কারণে একই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ইসমাইলের কল পেয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ২০ এপ্রিল বিকেলে শালিকা গ্রামের ঘিনালা মাঠে একটি ধানক্ষেতে ঝন্টুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এজাহারে বলা হয়, ঝন্টুর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা জাহা বক্স মণ্ডল। এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে ইসমাইল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে আসে। তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৪ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটি প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ২০ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য গ্রহণ ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার বিষয়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মামলার রায়ে ঝন্টুর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।


