ক্রীড়া প্রতিবেদক:
‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’Ñএ প্রত্যয়কে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৫৩তম জাতীয় আন্তঃস্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাত দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর। উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন ইভেন্টে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা। গতকাল সমাপনী দিনে বালক ও বালিকা বিভাগের কাবাডির জমজমাট ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী টাউন ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। বক্তব্যে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও শারীরিক কসরতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। তিথি মিত্র বলেন, শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, দেশজুড়েই জাতীয় আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া শিক্ষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ব্যস্ত রাখা গেলে সামাজিক অবক্ষয়ের অনেক কিছু থেকেই তাদের দূরে রাখা সম্ভব। চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ যারা চ্যাম্পিয়ন, রানার আপ কিংবা বিজয়ী হয়েছো, তোমরা শুধু বিজয়ী ট্রফি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অনুশীলন করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলিও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিকাইল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজি, চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ জান্নাত আলি, চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রউফুন নাহার রিনা, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, বালক হ্যান্ডবল ও বালক কাবাডি প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক মালিক আব্দুল বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন এবং দাবা প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা। এছাড়া সদর উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক, স্থানীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, আমন্ত্রিত অতিথি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন পায় উৎসবের আমেজ। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দর্শকদের করতালি ও উৎসাহে খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছিল বাড়তি উদ্দীপনা।
এবারের আন্তঃস্কুল গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ফুটবল রাখা হয়নি। তবে বালক ও বালিকা কাবাডি, হ্যান্ডবল, দাবা ও সাঁতার ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের বালক ও বালিকারা এসব ইভেন্টে নিজেদের ক্রীড়া নৈপুণ্য তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় বালক কাবাডিতে গ্রিসনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বালিকা কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রাহেলা খাতুন গার্লস একাডেমি। বালক হ্যান্ডবলে সরোজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা হ্যান্ডবলে ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেয়া। প্রধান অতিথি তিথি মিত্রসহ অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও একক ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন।
সাত দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনা করেন ইসলাম রকিব, ফিরোজ উদ্দিন, আব্দুল হাই, বিলকিচ নাহার, আইরিন ইসলাম, মুক্তাদির রহমান, শাহ আলম, আহসান হাবীব হাসান, হাফিজুর রহমান, শামসুন্নাহার শিলা, দিলরুবা খুকু, সাইফুল ইসলাম, খাজের আলী, শামীমা খাতুন, খাইরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল আহমেদ।


