মেহেরপুর অফিস:
মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের নওদাপাড়ায় ঘুমন্ত বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে সাহাবুল শেখের (৪০) বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত পিতা হাবিল উদ্দীনকে (৭০) উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে হাবিল উদ্দীন নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার ছেলে সাহাবুল ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে তার গলা ও বাঁ হাতের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলার পর প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাবিল উদ্দীন ঝাউবাড়িয়া গ্রামের নওদাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত সামসুদ্দিন শেখের ছেলে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা শাহাবাজ উদ্দিনের ভাষ্য, হাবিল উদ্দীন ও তার ছেলে সাহাবুলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তাদের সম্পর্কও ভালো ছিল না। রবিবার হাবেল শেখ ছেলেকে না জানিয়ে একটি গাছ বিক্রি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও বেড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজনেরা।
অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জমিজমা ও সম্পদ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি বাবার গালাগালিতে ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। পুলিশের কাছে সাহাবুল জানিয়েছেন, তার বাবা তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে আসছিলেন। নিজের জমিতে অন্য একজনকে সার ছিটাতে দেখে তার মাথা গরম হয়ে যায়। এ কারণে তিনি বাবাকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিজের ফাঁসি হলেও সমস্যা নেইÑএমন মন্তব্যও তিনি করেছেন বলে প্রথম সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাহাবুলকে আটক করে। অপর একটি সূত্রে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তিনি কীভাবে পুলিশের হেফাজতে এসেছেন, সে বিষয়ে দুই সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে হত্যার ঘটনা তিনি শুনেছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা করা হলে এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।


