আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগমেহেরপুরের শ্বশুরবাড়ির ঘরে ঝুলছিল নববধূর নিথর দেহ, শাশুড়ি পলাতক

মেহেরপুরের শ্বশুরবাড়ির ঘরে ঝুলছিল নববধূর নিথর দেহ, শাশুড়ি পলাতক




নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামে হাসনাহেনা (১৯) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মা তাদের মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন। তবে এটি হত্যা না-কী আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে নিহতের শাশুড়ি মাহফুজা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত হাসনাহেনা মেহেরপুর সদর উপজেলার খোকসা গ্রামের হাসাইনের মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে রঘুনাথপুর গ্রামের মিনহাজের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাসনাহেনার সঙ্গে তার শাশুড়ির বিরোধ চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির কাজকর্ম নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য আরও বেড়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসনাহেনার চাচি-শাশুড়ি সোহাগী কলার মোচা কাটার জন্য দা নিতে ওই বাড়িতে যান। এ সময় ঘরের ভেতরে ঢুকে তিনি ফ্যানের সঙ্গে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় হাসনাহেনাকে দেখতে পান। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয় কয়েকজন মিলে হাসনাহেনাকে নিচে নামান। সোহাগী বলেন, দা নিতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকেই তিনি হাসনাহেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। প্রতিবেশী পরশ জানান, পাশের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসনাহেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর কয়েকজন মিলে তাকে নিচে নামান। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
হাসনাহেনার স্বামী মিনহাজ বলেন, ঘটনার সময় তিনি মাঠে কাজ করছিলেন। বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তার ভাষ্য, গত তিন দিন ধরে তুলা ওঠানো নিয়ে তার মা ও স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। তবে ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় কী ঘটেছিল, তা সরাসরি দেখেননি।
এদিকে হাসনাহেনার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, তাদের মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর খবরে তারা ভেঙে পড়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এ ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিদ বলেন, বিয়ের পর থেকেই হাসনাহেনার সঙ্গে তার শাশুড়ির বিরোধ চলছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসা ইনচার্জ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিচে নামানো অবস্থায় দেখতে পায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দেয়া অবস্থায় হাসনাহেনাকে ঝুলতে দেখা গিয়েছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে হাসনাহেনার শাশুড়িকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্য পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ