আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নতুন ভোটার হতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তরুণ-তরুণীরা। অনলাইনে আবেদন করার পরও অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র চাওয়া, সেগুলো সত্যায়িত করানো এবং অঙ্গীকারনামা দিতে গিয়ে তাদের একাধিকবার কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না থাকলে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া প্রত্যয়নপত্রেও সরকারি প্রথম শ্রেণির গেজেটভুক্ত কর্মকর্তার সত্যায়িত সাক্ষর চাওয়া হচ্ছে। অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধনের কপিতেও সত্যায়িত স্বাক্ষর ছাড়া কাগজ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া ভোটার এলাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক নারী ভোটারের অভিযোগ, বয়স প্রায় ৫০ বছর হলেও ভোটার স্থানান্তরের জন্য তার কাছে বৈবাহিক কাবিননামা চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভোটার হওয়ার জন্য ডিজিটাল জন্মনিবন্ধনের যাচাই করা কপি, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দেয়া নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি থাকে), ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ, রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি ও কাবিননামা প্রয়োজন হয়। এছাড়া আগে ভোটার হননিÑএ মর্মে অঙ্গীকারনামার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১ মার্চ আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে মেজর আহম্মেদ যোগদানের পর থেকে এসব বিষয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে তারা সমস্যায় পড়ছেন। যারা প্রাথমিকের পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র আনার পরও অতিরিক্ত সত্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের হাটবোয়ালিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম সিহাব বলেন, আমি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। বাবার অসুস্থতার কারণে আর পড়াশোনা করতে পারিনি। সংসার চালানোর জন্য কাজ করছি। ভোটার হতে এসে কয়েকবার নির্বাচন অফিসে যেতে হয়েছে। স্কুল থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসার পরও স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হয়েছে এবং কাগজপত্র সত্যায়িত করাতে হয়েছে।
তিয়রবিলা গ্রামের আফিয়া তাসনিম ইরা, রানা আহম্মেদ ও তপন আলীসহ আরও কয়েকজন নতুন ভোটারও একই ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দূরদূরান্ত থেকে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার পরও নতুন করে কাগজ আনতে বলা হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থÑদুই-ই ব্যয় হচ্ছে। সেবাপ্রার্থীদের আরও অভিযোগ, নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় তাদের বারবার আসতে হচ্ছে। কারও সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
অভিযোগের বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেজর আহাম্মেদ বলেন, ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেয়ার কথা তিনি বলেননি। কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নিজেরাই স্ট্যাম্প নিয়ে এসেছেন। কিছুদিন আগেও কয়েকজন স্ট্যাম্প নিয়ে এলে তিনি তাদের ধমক দিয়ে স্ট্যাম্পের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি বিষয় হলো, তারা তথ্য গোপন করছেন। তাদের অধিকাংশই কলিং ভিসায় বিদেশে যাচ্ছেন। আমরা তদন্ত করে ১০ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পেয়েছি। তাহলে তারা শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দিচ্ছেন না কেন? আইনে তদন্ত করে বিষয়টি যাচাই করার কথা আছে। আমরা সেটিই করছি। শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র না থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে যেন বিষয়টি নিয়ে তার কাছে কোনো চ্যালেঞ্জ না আসে, সে জন্য তাদের কাছ থেকে একটি লিখিত নেয়া হচ্ছে। তবে সেই লিখিত ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে দিতে হবেÑএমন কোনো নিয়ম নির্বাচন অফিস থেকে বলা হয়নি। সাধারণ কাগজেও ওই লিখিত দেয়া যেতে পারে।


