নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চুয়াডাঙ্গায় সাত দিনব্যাপী নজরুল সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, হামদ-নাত, কীর্তন, রচনা প্রতিযোগিতা, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা, একক অভিনয় ও নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। উৎসবটি সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৪টায় জেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উৎসবের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নজরুল সাংস্কৃতিক উৎসব পরিচালনা কমিটির সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ, জেলা কালচারাল কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল হাসান মিলন এবং জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রগতি লেখক সংঘের কাজল মাহমুদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা কলাকেন্দ্রের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিয়া, উদীচী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আদিল হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুছাইন মালিক, সাংবাদিক জিসান আহমেদ, দামুড়হুদা উপজেলা জাসাসের সভাপতি আক্কাস আলী, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিরণ উর রশীদ শান্ত, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ, পিন্টু রহমান এবং চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা।
আয়োজকেরা জানান, আগামী ২৫ অক্টোবর বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে উৎসবের কার্যক্রম শুরু হবে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সাত দিনের এ আয়োজন। উৎসবে বিভিন্ন শাখায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, হামদ, নাত, কীর্তন ও রচনা প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনায় বাঁশি, ঢোল ও একতারার মতো দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার এবং একক অভিনয় ও নাটক প্রতিযোগিতাও থাকছে। এর মধ্য দিয়ে সংগীত, সাহিত্য, আবৃত্তি ও মঞ্চনাটকের বিভিন্ন ধারায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মে সাম্য, মানবতা, শোষণবিরোধিতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের মুক্তির আকাক্সক্ষা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তার সৃষ্টিকর্মের চর্চা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চুয়াডাঙ্গায় সাত দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উৎসাহ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। উৎসবের মধ্য দিয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


