আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগচুয়াডাঙ্গা ও জীবননগরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি, অপহরণ ও শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ভোগীদের অর্থ প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। শুরুতে তিনি আগের সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন।
সভায় সদর থানার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। সভায় জানানো হয়, জুন মাসে সদর থানায় মোট ৪৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকসংক্রান্ত মামলা ২১টি, অপহরণের ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩টি, চুরির ৭টি, অস্ত্র আইনের ১টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ১০টি মামলা রয়েছে। জুলাই মাসে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৪টিতে। এর মধ্যে ডাকাতির ১টি, মাদকসংক্রান্ত ৭টি, ধর্ষণের ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩টি, চুরির ২টি, মানব পাচারের ১টি এবং অন্যান্য বিষয়ে ৯টি মামলা রয়েছে। সভায় মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নেয়া কার্যক্রমের প্রতিবেদন প্রতি মাসে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে বলা হয়। কার্যক্রমের ছবি প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান বা আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক ও বাল্যবিবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, গ্রাম পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে বাড়িঘর, মসজিদ-মন্দির, অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের ছবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেয়া, পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমে থাকলে তা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ভোগীদের অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়।
ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে ভাতা ভোগীদের টাকা হাতিয়ে নেয়া কিংবা হ্যাক করে নেয়ার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে গ্রাম পুলিশদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত পিন নম্বর, গোপন তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অন্যের কাছে পিন নম্বর বা গোপন তথ্য না দেওয়া এবং প্রতারণামূলক ফোনকল বা বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধ ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনো শিশু নিখোঁজ হলে দেরি না করে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় কৃষি খাতের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং সেগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর রাখার কথা বলা হয়। কৃষকদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা সমস্যা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুদের নিরাপত্তা, ডেঙ্গু মোকাবিলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল আহমেদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাঈদ হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জীবননগর অফিস জানিয়েছেন, জীবননগরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, মানব পাচার ও আত্মহত্যার প্রবণতা রোধসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে মাসিক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহারজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি কমাতে এ উদ্যোগের কথা বলা হয়। এছাড়া উপজেলার সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতেও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সভায় অংশ নেয়া ব্যক্তিরা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, জীবননগর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল হোসেন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান আলী ও পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও পৌর আমির হাফেজ ফিরোজ হোসেন, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার, শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল, সমবায় কর্মকর্তা নুর আলম, হাসাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম এবং আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মার্জা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা অংশ নেন। আলোচনায় স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, শুধু প্রশাসন বা পুলিশের একার পক্ষে একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। মাদক, অনলাইন জুয়া, মানব পাচার কিংবা আত্মহত্যার মতো সামাজিক সমস্যার কার্যকর প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ