নিজস্ব প্রতিবেদক:
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মানববন্ধন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, রোড শো, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
বুধবার সকাল ১০টায় শহরের বড় বাজার চৌরাস্তা মোড়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গার সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আয়োজকেরা। পরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে শহরে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। সভা সঞ্চালনা করেন বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) লিটন বিশ্বাস। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে চালক, যাত্রী, পথচারীসহ সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদেরও সড়ক পারাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। লুৎফুন নাহার আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক মূল্যবান প্রাণ ঝরে যায়। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য পরিবার, নেমে আসে দুর্ভোগ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চালকদের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিতÑআইন মেনে চলা, সচেতনভাবে সড়ক ব্যবহার করা এবং সবার জন্য নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা। সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান, চুয়াডাঙ্গা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মুক্তা, নিরাপদ সড়ক চাই চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর এবং ট্রাফিক পুলিশের প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামসহ অন্যরা।
বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের আইন মেনে চলা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে সড়ক পারাপার এবং সড়ক ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন। সভা শেষে চুয়াডাঙ্গার সড়কে দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানোর স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন বাসচালকের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সড়ক নিরাপত্তায় চালকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সড়ক নিরাপদ দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। মেহেরপুর জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মেহেরপুরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ। সভায় বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চঃ দাঃ) মিজানুর রহমান, মেহেরপুর বিআরটিসির পরিদর্শক সাইদুর রহমান, জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই আঃ হান্নান, জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, মেহেরপুর জেলা ট্রাক, ট্রাঙ্কলরি ও কাভার্ড ভ্যান (দাহ্য পদার্থ ব্যতীত) শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আকিব উদ্দিনসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়াও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি, বিআরটিএ-এর কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা।
প্রধান অতিথি জনাব শিল্পী রানী রায় তার বক্তব্যে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সড়ক আইন মেনে চলা, ট্রাফিক নিয়মাবলী অনুসরণ করা এবং যানবাহন চালকদের দায়িত্বশীলতার সাথে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান। সভায় দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়। সড়কে যানবাহন ও চালকদের ফিটনেস, লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়মাবলী কড়াকড়িভাবে মেনে চলার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।এই আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রণীত এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়ক পথ আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে এবং প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। সভায় মেহেরপুর জেলার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।


