নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় সপ্তাহব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত নজরুল উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সাত দিনের উৎসবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ৭৯ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি নিতাই রায় চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতাপাঠ ও বাইবেল থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত এবং জিয়া পরিবারের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আবৃত্তিশিল্পী হিরণ-উর-রশীদ শান্ত, নুসরাত জাহান করবী ও মনোয়ারা খুশি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতির বিকাশে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারলে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। যারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানাই। যারা পুরস্কার পায়নি, তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী ও সাম্যবাদী চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। অনুষ্ঠানে নজরুলের সাহিত্যকর্ম, কবিতা, গান ও নাটকের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ও নজরুল গবেষক ড. মুন্সি আবু সাইফ। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম ও তার চিন্তাধারার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামান, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন এবং জেলা জাসাসের সভাপতি সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। আলোচনা পর্ব শেষে নজরুলের লেখা গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এরপর কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংঘের শিল্পীরা কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘নীল কুঠি’ নাটক মঞ্চস্থ করেন। পরে সপ্তাহব্যাপী উৎসবে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৭৯ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সংস্কৃতিকর্মীরা। এছাড়া অরিন্দম, উদীচী, সংলাপ, কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংঘ ও আলমডাঙ্গা কলাকেন্দ্রসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


