নিজস্ব প্রতিবেদক:
তালাক দেয়ার পরও সাবেক স্ত্রীর কাছ থেকে একের পর এক হামলা, মারধর, মামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন আলমডাঙ্গার গণমাধ্যমকর্মী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তার দাবি, ঢাকায় আদালত প্রাঙ্গণ, হাসপাতাল, বাসা ও কমলাপুর রেলস্টেশনÑবিভিন্ন জায়গায় তাকে মারধর করা হয়েছে। এমনকি তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ তালাকের প্রায় ২০ মাস পর ঝালকাঠির আদালতে তার বিরুদ্ধে আবারও যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সালাহ উদ্দিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সালাহ উদ্দিনের ভাষ্য, পারিবারিক অশান্তি, মনের অমিল, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অপমান ও প্রাণনাশের হুমকি এবং তার বৃদ্ধ বাবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রী আসমা আক্তারকে তালাক দেন তিনি। তালাকের নোটিশ পাঠানোর দুই দিনের মাথায় তার বিরুদ্ধে ঢাকার হাজারীবাগ থানায় যৌতুকের মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস ছয় দিন কারাগারে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। জামিনে বের হয়ে ঢাকার মিতালী রোডের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন, তার ব্যবহারের মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরে ওই মামলায় ঢাকার জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন সালাহ উদ্দিন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে গেলে সাবেক স্ত্রী, তার মা, দুই ভাই ও ভাবিরা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে জোর করে তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দারুস সালাম থানার পুলিশের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান। এর কয়েক মাস পর মে মাসে গভীর রাতে ঢাকার আদাবরের বাসায় গিয়ে সাবেক স্ত্রী হামলা করেন এবং তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন সালাহ উদ্দিন।
সাম্প্রতিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই মাসে আলমডাঙ্গার গ্রামের বাড়ি থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর সাবেক স্ত্রী আসমা আক্তার, তার পরিবারের সদস্য ও ভাড়া করা লোকজন তাকে মারধর করেন। এ সময় তার দুটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান বলে দাবি তার। সংবাদ সম্মেলনে সালাহ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্ত্রীর ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান রনি চাকরি দেয়ার কথা বলে তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত না দেয়ায় তার ভাই চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা আদালতে হাজিরার সময় সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আবারও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সালাহ উদ্দিন বলেন, তালাকের প্রায় ২০ মাস পর সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠির আদালতে আবারও যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, মামলাটিকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নিজের বাবাকে নিয়েও পুরোনো একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন সালাহ উদ্দিন। তার অভিযোগ, ২০২২ সালে সাবেক স্ত্রীর ধাক্কায় পড়ে তার বাবার কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। ওই সময় গ্রামের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরে বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হলে তাকে মিতালী রোডের বাসায় আটকে রাখার অভিযোগও করেন সালাহ উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, তার সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তার কর্মস্থলেও গিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। ‘নিলুফা ইয়াসমিন’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ কাজে স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম তাদের অজান্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি তার।
সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে তিনি, তার বাবা-মা ও ভাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঝালকাঠিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা, গুম কিংবা জনতার হাতে মারধরের আশঙ্কা করছেন তিনি। এ অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চেয়েছেন এই গণমাধ্যমকর্মী।


