নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় ২৪ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় প্রায় ১২ বছর পর দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের মধ্যে সাগরকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা এবং শফিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে সাগরকে আরও দুই মাস এবং শফিকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুই আসামিই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার সারণির ৩(ক) ও ১৯(৪) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে এ সাজা দেয়া হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার অথবা আত্মসমর্পণের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে। মামলার আগে হাজতে কাটানো সময় আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাগর (৩০) চুয়াডাঙ্গার জীবননগনগর উপজেলার উথলী গ্রামের আসতলাপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শাহাবুর রহমান ওরফে খোকন। অপর আসামি শফির (৫০) বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত শেহিরার শেখ বলে রায়ের আদেশে উল্লেখ রয়েছে। দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিযুক্ত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ওরফে ডালিম। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৮ জুন রাতে দর্শনা তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রাতের টহলে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে দর্শনা হঠাৎপাড়া রেলগেটের পাশের যাত্রীছাউনির সামনে পাকা সড়ক থেকে সাগর ও শফিকে আটক করেন তিনি। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় সাগরের শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা ১৮ বোতল এবং শফির শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা ছয় বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে সাগরের কাছ থেকে ১ হাজার ৮০০ মিলিলিটার এবং শফির কাছ থেকে ৬০০ মিলিলিটার ফেনসিডিল পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪০০ মিলিলিটার বা ২ দশমিক ৪ লিটার। পুলিশ একই দিন রাত সাড়ে ৯টায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা ফেনসিডিল জব্দ করে। পরে আটক দুই ব্যক্তি ও জব্দ করা মাদকদ্রব্যসহ দামুড়হুদা থানায় ফিরে মামলা দায়ের করেন উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান। মামলাটি দায়রা মামলা নম্বর ৩৩৩/২০১৪ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন ছিল। এর সূত্র ছিল দামুড়হুদা থানার মামলা নম্বর ১০, তারিখ ৮ জুন ২০১৪, জিআর মামলা নম্বর ১৭৮/২০১৪। রায়ে আদালত জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আপিল দায়েরের সময়সীমা শেষ হলে বিধি অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


