নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও যন্ত্রপাতি লুটের মামলায় আব্দুল আলীম ওরফে রানাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে এ মামলায় অভিযুক্ত অপর ১৪ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। রায়ে দণ্ডিত আব্দুল আলীম ওরফে রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আব্দুল আলীম ওরফে রানাকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৯৫ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে ৩৯৭ ও ৪১২ ধারার অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। মামলায় আগে হাজতে কাটানো সময় আইন অনুযায়ী তার কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুন্দিপুর মাদ্রাসাপাড়ার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। পরদিন ৩ আগস্ট তিনি চুয়াডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে জয়নাল আবেদীন উল্লেখ করেন, রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষে তারা নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি তার শয়নকক্ষের দরজায় এসে পানি খাওয়ার কথা বলে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলার পর তাদের হাতে লাঠি, হাসুয়া ও বড় টর্চলাইট দেখতে পান তিনি। টর্চের আলোয় তাদের মধ্যে দুজনকে চিনতে পারেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে চুপ থাকতে ভয় দেখানো হয়। এ সময় একজন তার ঘাড়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং অন্যজন তলপেটে লাথি মেরে তাকে সরিয়ে দেন। এরপর তারা ঘরে ঢুকে বিছানার নিচে রাখা পাঁচ হাজার টাকা এবং টেবিলের ওপর একটি বইয়ের ভেতরে রাখা আরও সাত হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান। পরে একই বাড়ির পাশের কক্ষে থাকা তার জামাতা বিল্লাল হোসেনের শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিল্লালের শ্যালো মেশিন মেরামতের যন্ত্রপাতির একটি ব্যাগ এবং দুটি মুঠোফোন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। যন্ত্রপাতির মূল্য আনুমানিক ১২ হাজার টাকা এবং মুঠোফোন দুটির মূল্য চার হাজার টাকা উল্লেখ করা হয় এজাহারে। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের মূল্য দাবি করা হয় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।
জয়নাল আবেদীনের অভিযোগ, চার ব্যক্তি তার বাড়ি থেকে মালামাল নিয়ে পশ্চিম পাশের আমবাগান দিয়ে পালিয়ে যান। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও অন্ধকারের মধ্যে তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রতিবেশী উজির আলীর বাড়িতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে খবর পান। এজাহারে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং অভিযুক্তদের একজন সাইদুল ইসলাম ওরফে শিকদারকে আটক করে। পরে জয়নাল আবেদীন থানায় গিয়ে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আব্দুল আলীম ওরফে রানাকে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। একই মামলায় সাইদুল ইসলাম ওরফে শিকদারসহ আরও ১৪ আসামিকে দণ্ডবিধির ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। তাদের জামিনদারদেরও জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশে মামলার জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আপিলের সময়সীমা শেষ হলে বিধি অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।


