নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ৯৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় হাবিবুর রহমান (২৭) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শম্পা বসু এ রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৯৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৪(গ) উপধারায় ১০জন সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় হাবিবুর রহমানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ড কার্যকরের সময় মামলার আগে হাজতে কাটানো সময় আইন অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ যাবে। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাভোগের জন্য হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, মামলায় জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল ভোরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জীবননগর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিল। সকাল ছয়টা পাঁচ মিনিটের দিকে শিয়ালমারী গরুর হাট এলাকায় অবস্থানকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জীবননগর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে শরীফ নামের এক ব্যক্তির চায়ের দোকানের সামনে জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে তিনজন ব্যক্তি ফেনসিডিল বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। খবরটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিবি পুলিশের দলটি সকাল ছয়টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও অন্য দুজন পালিয়ে যান। এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান তার কাছে ফেনসিডিল থাকার কথা জানান। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার ডান হাতে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ থেকে ৯৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৯ হাজার ৬০০ মিলিলিটার তরল ছিল। উদ্ধার করা ফেনসিডিলের মধ্য থেকে একটি বোতল রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আলাদা করে সিলগালা করা হয়। বাকি ৯৫ বোতল পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি জীবননগরের মাধবখালী গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩১) এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদকদ্রব্য নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও চুয়াডাঙ্গা আদালতের মালখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


