নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নে বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও প্রতিবন্ধী রোগীদের জন্য দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে রিহ্যাবিলিটেশন মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে এলাকার অসহায়, দুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য বিনামূল্যে থেরাপি ও পুনর্বাসনসেবা দেয়া হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রোগীরা এ সেবা গ্রহণ করেন। প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার যেসব মানুষ অর্থাভাবে নিয়মিত থেরাপি কিংবা পুনর্বাসনসেবা নিতে পারেন না, তাদের জন্য এ ক্যাম্প ছিল বিশেষ সহায়ক।
আয়োজকেরা জানান, বাত ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেনÑএমন রোগীদের প্রয়োজনীয় রিহ্যাবিলিটেশন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই ক্যাম্পটির আয়োজন করা হয়। বিশেষজ্ঞ সেবার পাশাপাশি রোগীদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় থেরাপি ও পুনর্বাসন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
দুই দিনব্যাপী ক্যাম্পে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বিশেষ করে বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা এবং দীর্ঘদিন ধরে বাত-প্যারালাইসিসজনিত সমস্যায় থাকা রোগীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ অর্থের অভাবে দূরের শহরে গিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা ও থেরাপি নিতে পারেন না। আবার কারও কারও জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়া শারীরিকভাবেও কষ্টকর। তাদের এলাকায় বিনামূল্যে এমন সেবা পৌঁছে দেওয়ায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। তারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিতভাবে এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের দাবি জানান। তাদের মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পুনর্বাসনসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শহরকেন্দ্রিক সেবার বাইরে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ায় এ ধরনের ক্যাম্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। তারা আরও জানান, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশাপাশি যারা দীর্ঘদিন ধরে বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় রিহ্যাবিলিটেশনসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এ ধরনের সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


