আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজআন্তর্জাতিকদীর্ঘ টানাপড়েন শেষে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া




ঢাকা অফিস:

দীর্ঘ আলোচনা, টানাপড়েন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের দরজা পুনরায় উম্মুক্ত হলো। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মীরা যাতে সহজে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়টি নিশ্চিতের মধ্য দিয়েই এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হয়েছে। মালেয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিমানভাড়াসহ সম্পূর্ণ বিনা খরচে (নিয়োগকর্তা সমস্ত খরচ বহন করবে) ১০ হাজার কর্মী পাঠানো হবে। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তের খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলেও পুরোনো বিতর্কিত সেই এজেন্সি সিন্ডিকেটের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। অর্থাৎ সেই পুরোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নতুন করে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।
মন্ত্রণালয় জানায়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না। কর্মীরা যাতে সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। ড. মো. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও তাতে অগ্রগতি আসেনি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৮ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে তারা। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা ফ্রিতে নেবে। বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে। তবে মীর শাহে আলমের এ দাবির সঙ্গে তখন দ্বিমত পোষণ করে মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছিলেন, দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট শিল্প ও খাতের প্রকৃত জনবল চাহিদার ভিত্তিতে নেওয়া হবে। এছাড়া ছয় মাসে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
এছাড়া বাংলাদেশের এজেন্সি নির্বাচন নিয়েও টানাপড়েন তৈরি হয়। বাংলাদেশি এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবারও পুরোনো ‘সিন্ডিকেট’ প্রথা সামনে আসে। নিয়োগকারী ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পরও সেই সিন্ডিকেট চক্র রেখেই কর্মী পাঠানোর ঘোষণা এলো। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরোনো সিন্ডিকেটই নতুন মোড়কে বৈধতা পেল। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনে বাংলাদেশের সরকারের হাত নেই।
এদিকে শ্রমবাজার অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ায় সফরে গেছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত বুধবার তারা মালয়েশিয়ায় যান। চার সদস্যের এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। সফরকারী দলটি সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে অবগত হবেন এবং তাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অন্যান্য শর্তগুলো সম্পর্কেও ধারণা নেবেন।
মালয়েশিয়ার তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, নিজেদের জব অর্ডার বা ডিমান্ড সংগ্রহ করতে পারবে, বাংলাদেশে নিজেদের কর্মী নির্বাচন করতে পারবে এবং নিয়ম অনুযায়ী সেই কর্মীদের নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অনুমোদিত প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজের রিক্রুটিং লাইসেন্সের মাধ্যমেই তার নিজস্ব কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। বোয়েসেল এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের কাজ করবে। বিএমইটি’র ছাড়পত্রের জন্য তারা অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।
জানা গেছে, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করছে। জানা যায়, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিক্যাল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে। কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে-এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একজন কর্মী যেন যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সেটা নিশ্চিত করা হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ