দামুড়হুদা অফিস:
‘একসাথে, আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’Ñএ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা ও টিকা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে আবারও কমপ্লেক্স চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় জলাতঙ্কের ভয়াবহতা, রোগটি প্রতিরোধের উপায় এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মহিবুল্লাহ, ডা. ইয়াসিন রাহাত, শাকিব আব্দুল মমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি রোগ। রোগের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, যথাযথ চিকিৎসা এবং টিকা গ্রহণের মাধ্যমে জলাতঙ্ক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ কারণে রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তারা বলেন, কুকুর, বিড়াল কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে সামান্য ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর প্রচলিত লোকজ চিকিৎসা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেন বক্তারা। তারা বলেন, ক্ষতস্থানে গোবর, চুন বা অন্য কোনো অপদ্রব্য লাগানো এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আলোচনায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধকে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতার বিষয় না দেখে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক নির্মূলে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, পোষা প্রাণীর মালিক এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে কুকুরের ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


