আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগকক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে পুড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজন হারিয়ে নির্বাক চুয়াডাঙ্গায় চাকরিরত নুর...

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে পুড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ স্বজন হারিয়ে নির্বাক চুয়াডাঙ্গায় চাকরিরত নুর আলম




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গায় আট বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করছিলেন নুর আলম। চাকরির সুবাদে দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় ছিল তাদের ছোট্ট সংসার। ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন স্ত্রী ফারিহা কবির ও তাদের সন্তান ফায়িজান আহম্মেদ। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফারিহার ভাই-বোন ও অন্য স্বজনেরা। কিন্তু আনন্দভ্রমণ শেষ করে বাড়ি ফেরার আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ছয়জনকে হারিয়েছেন নুর আলম। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন অন্তত ১০ জন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এ ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি তিনতলা স্থাপনাটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে একে একে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গার মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) নুর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় টানা আট বছর ধরে ভাড়া থাকেন। তাদের সন্তান ফায়িজান চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নুর আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ১৪ অক্টোবর স্ত্রী ফারিহা, সন্তান ফায়িজান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে তাঁরা কক্সবাজারে বেড়াতে যান। তবে অফিসের জরুরি কাজ থাকায় শুক্রবার তিনি পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্বজনদের খোঁজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সেদিনই ফিরে আসার কথা ছিল। মুঠোফোনে নুর আলম বলেন, কীভাবে রিসোর্টে আগুন লাগল, জানি না। সেখানে আটকা পড়ে আমার স্ত্রী, সন্তানসহ ১০জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। স্ত্রী-সন্তানকে হারানোর কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন তিনি। নুর আলম জানান, তার স্ত্রী ফারিহা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অন্যের সাহায্য নিতে হতো তাকে। তাই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন, যাতে ফারিহার দেখাশোনায় সুবিধা হয়। সেই ভ্রমণই যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করেননি কেউ। স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হারিয়ে নুর আলম বলেন, স্ত্রী, ছেলে, শ্যালক চলে গেছে। আল্লাহ, আমাকে কেন বাঁচিয়ে রাখলে? ওদের সঙ্গে আমাকেও নিয়ে গেলে বেঁচে যেতাম।
চুয়াডাঙ্গায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাদের কক্ষটি তালাবদ্ধ। বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, নুর আলম আট বছর ধরে তার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। তারা ভালো মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নুর আলম ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে মর্মান্তিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর একটি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের জিয়াদুল কবিরের পরিবার। তার একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) এবং নাতি ফাইজান নূর (৬) মারা গেছেন। সদ্য অবসর নেয়া এই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী কাজল রেখা শোকে ভেঙে পড়েছেন।

                         আগুনে দগ্ধে নিহতদের ফাইল ছবিঃ খাসখবর 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বেড়াতে যান নাসির সিয়াম। তিনি আমতলীর একটি বেসরকারি স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক শেষ করে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তরের শেষ বর্ষে পড়ছিলেন। বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে তার এই ভ্রমণই হয়ে উঠল শেষ যাত্রা।
ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারানোর খবর পেয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন জিয়াদুল কবির। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম, একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির ও নাতি ফাইজান উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছে। আমার এখন বেঁচে থেকে লাভ কী? কী নিয়ে আমি বাঁচব? সব তো আমার শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী কাজল রেখাও বিলাপ করতে করতে বলেন, ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা আর দুনিয়ায় বেঁচে থেকে কী করব?
এ ঘটনায় জিয়াদুল কবিরের ভায়রাদের পরিবারের আরও তিন তরুণীও মারা গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে মালিহা কবির মিলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। নাভিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। আর আলভী ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাদের মৃত্যুর খবরেও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু অমিল রয়েছে। দগ্ধ মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট। পর্যটকদের থাকার জন্য বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল তিনতলা স্থাপনাটি। রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টের নিচতলার রান্নাঘর এলাকায় বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কাঠের দেয়াল ও বাঁশের কাঠামোয়। সমুদ্রের দিক থেকে প্রবল বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে তিনতলা ভবনটিকে গ্রাস করে। ঘুমন্ত পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করলেও অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের স্টেশন থেকে কর্মীরা সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ভবনের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কাঠের স্থাপনা ও সমুদ্রের প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রিসোর্টটিতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্সও ছিল না বলে জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।
অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া আশিকুল ইসলাম জানান, আগুনের বিষয়টি বুঝতে পেরে তার স্ত্রী তাকে ডেকে তোলেন। এরপর তিনি পাশের কক্ষে থাকা স্বজনদের সতর্ক করতে যান। এর মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে তিনি দ্রুত একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী আর বের হতে পারেননি।
আশিকুলের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহত অবস্থায় তিনি এবং তার দুই স্বজন মাসুদ রানা ও মিলা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নেয়া হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের শরীরের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ধোঁয়া শ্বাসনালিতে প্রবেশ করায় কারও কারও শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। উদ্ধার করা মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় স্বজনদের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু ব্যক্তিকে নিখোঁজ বলেও জানানো হয়েছিল। তবে উদ্ধার ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং সবার পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অনুমোদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে পরিদর্শনের সময় রিসোর্টটিকে অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা ও আইনি নোটিশও দেয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান। কিন্তু প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই রিসোর্টটিতে কার্যক্রম চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিসোর্টটির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে কী অবস্থা ছিল, তা তদন্তে যাচাই করা হবে। ঘটনার পর রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে পুলিশ আটক করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রিসোর্টের মালিকদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করতে হবে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব খতিয়ে দেখবে কমিটি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হবে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান মজুমদারও জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী উখিয়া-টেকনাফের পর্যটন এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ ও নজরদারিতে ঘাটতি থাকায় উপকূলীয় এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, জরুরি বহির্গমনপথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করার পর কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে পাশে থাকার কথা বলেছেন।
কক্সবাজারের সমুদ্র, পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যারা পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি আনন্দময় দিন কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের অনেকেরই সেই স্বপ্ন শেষ হয়েছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। চুয়াডাঙ্গার ভাড়া বাসায় নুর আলমের তালাবদ্ধ ঘর থেকে শুরু করে বরগুনায় জিয়াদুল কবিরের শোকাহত পরিবারÑসবখানেই এখন একই প্রশ্ন, এই ক্ষতি কীভাবে সামলাবেন তারা? আর যে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার কথা ছিল পর্যটকদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য, সেটি কেন নিশ্চিত করা যায়নিÑতার উত্তর খুঁজছেন স্বজনেরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ