নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযানে পৃথক ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। এর মধ্যে মাদকসহ গ্রেপ্তার এক তরুণকে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য আদালতে পাঠানোর পর তাকে এক বছর ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একটি মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ১০টার দিকে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অভিজিৎ সিংহ রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সুমিরদিয়া (ঠিকানামোড়) এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ওই গ্রামের বাসিন্দা তাজমুন শেখের (২৪) বসতবাড়ির উত্তর পাশের একটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে তার হেফাজতে থাকা চারটি ইয়াবা বড়ি ও এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মাদক জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয় এবং তাজমুন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার সারণির ১০(ক) ও ১৯(ক) ধারায় মামলা করে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, আদালত শুনানি শেষে তাজমুন শেখকে ওই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এক বছর ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, সদর থানা পুলিশের আরেক অভিযানে ২০২৪ সালের একটি মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি মনোয়ার মোল্লাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার হাতিকাটা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনোয়ার মোল্লা আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামের মৃত খোদন মোল্লার ছেলে। পুলিশ তাকে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১১৪, ৩২৩, ৩২৪ ও ৩২৬ ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্যে মনোয়ার মোল্লাকে আলুকদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ওই মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পৃথক দুই অভিযানে গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে তাজমুন শেখকে মাদক মামলায় তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন। আর পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার মনোয়ার মোল্লাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


