সরোজগঞ্জ/নেহালপুর প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বটতলা বাজারে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিএডিসির এক সার ডিলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেয়া সাত বস্তা সার আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ডিলারকে ১০ হাজার টাকা এবং সার কেনার অভিযোগে হিজলগাড়ী বাজারের বাবুল ট্রেডার্সকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে কৃষ্ণপুর বটতলা বাজার-হিজলগাড়ী সড়কে সার বহনকারী একটি পাখিভ্যান আটকানোর ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে হিজলগাড়ী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃষ্ণপুর বটতলা বাজারের বিএডিসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স রানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম সরকারি বরাদ্দের সার নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন সার বহনকারী পাখিভ্যানটি আটক করেন। এ সময় ভ্যানে থাকা সাত বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে পাঁচ বস্তা এমওপি ও দুই বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। এসব সারের সরকারি মূল্য সাত হাজার ১০০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালত জব্দ করা সার বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেসার্স রানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে সার কেনার অভিযোগে হিজলগাড়ী বাজারের বাবুল ট্রেডার্সকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরজ আলী বলেন, সার ডিলার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আগেও উঠেছিল। তার দাবি, এর আগে আট বস্তা সরকারি সার অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করা হলে স্থানীয় লোকজন তা আটক করেন এবং লিখিতভাবে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। তবে তখন কৃষি বিভাগ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ফরজ আলী। ফরজ আলী বলেন, আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তখন ব্যবস্থা নেয়া হলে হয়তো আবার এমন ঘটনা ঘটত না। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্যত্র বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।
পুনরায় এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার অনিয়মের মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রি হলে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হন। বিশেষ করে চাষের মৌসুমে সারসংকট তৈরি হলে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হতে পারে। এ কারণে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএডিসির সার ডিলার সাইফুল ইসলামের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি নেহালপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সার বিক্রি করেন। রবিবার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সার বিক্রির নির্ধারিত দিন ছিল। কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সার বিক্রির কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, তার চেয়েও বড় কথা, তিনি কার্ড ছাড়া কীভাবে সার বিক্রি করেছেন?
সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত কৃষকদের কাছে নিয়ম মেনে বিক্রি হচ্ছে কী-না, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি আগের ঘটনার দাবিও তদন্ত করে দেখা হলে সার বিতরণে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।


