নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) কার্যক্রমের তথ্যের সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেছেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে (জিও-এনজিও) যৌথভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে এনজিওগুলোকে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক এনজিওবিষয়ক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
সভায় এনজিওগুলোর কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, অধিকাংশ এনজিও সভায় তাদের কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপন করছে ঠিকই, তবে সেসব তথ্যের সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করা যাচ্ছে না। এ কারণে পরবর্তী সভা থেকে তথ্য উপস্থাপনে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, আগামী সভায় প্রতিটি এনজিওকে তাদের কার্যক্রমের সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি সংস্থাগুলোর প্রতিটি কার্যক্রমের লিখিত বিবরণ জমা দিতে হবে। কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও উপস্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, আগামী মাস থেকে তিনটি এনজিও তাদের মাসিক কার্যক্রম সভায় উপস্থাপন করবে। এতে সংস্থাগুলোর বাস্তবায়িত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং সেগুলোর অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যৌথভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপদ্রব বাড়ছে। এ অবস্থায় এনজিওগুলোকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের আশপাশের পরিবেশ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।
সভায় স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং ডেঙ্গু মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি এনজিওগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক-উজ-জামানের সঞ্চালনায় সভায় গত মাসের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, সাংবাদিক বিপুল আশরাফ, ব্র্যাকের চুয়াডাঙ্গা জেলা সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিওন রুগ্গা এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের জেলা নির্বাহী পরিচালক জহির রায়হানসহ বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভায় এনজিওগুলোর কার্যক্রমের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, লিখিত প্রতিবেদন ও দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমের জবাবদিহি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে সেবার সুফল পৌঁছে দেয়া সহজ হবে।
আলমডাঙ্গায় অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণকালে এমপি রাসেল
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গায় অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ সহায়তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আক্তার। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-১ নির্বাচনী এলাকার আলমডাঙ্গা উপজেলার অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, সমাজের অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর্থিক সংকটের কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা। যারা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক, অসহায়, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে সব সময় রয়েছে। এই অনুদান তাদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে বলেন, প্রাপ্ত অর্থ যেন প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা হয়। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের জরুরি চাহিদা পূরণে সহায়তার অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের অসচ্ছল ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাওয়া মানুষের জন্য এ ধরনের অনুদান তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রকৃত অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে এ সহায়তা পৌঁছে দেয়া গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সুফল আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


