আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজসম্পাদকীয়পারিবারিক কলহের বলি কেন হবে শিশু?

পারিবারিক কলহের বলি কেন হবে শিশু?




পারিবারিক কলহের জেরে ১১ মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যাকে বিষাক্ত কীটনাশক খাওয়ানোর অভিযোগ নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামের ঈদগাহপাড়ায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্র নয় এটি আমাদের সমাজে পারিবারিক সহিংসতা, দাম্পত্য কলহ এবং সবচেয়ে অসহায় সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে নির্ধারিত হবে, তবে যে শিশুটি নিজেকে রক্ষা তো দূরের কথা, নিজের প্রয়োজনটুকুও ভাষায় প্রকাশ করতে পারে নাÑতার এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়ার খবরই যথেষ্ট বেদনাদায়ক। ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে ঝগড়া ও মারামারি হয়। পরে স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে ঘুমিয়ে থাকা ১১ মাস বয়সী শিশুটির মুখে ঘাসপোড়া কীটনাশক ঢেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির চিকিৎসা চলছেÑএটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দাম্পত্য বিরোধ কখনোই শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি পরিবারের অশান্তির সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় অনেক সময় শিশুদের। তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারে না, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, আবার বড়দের বিরোধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করারও কোনো ক্ষমতা তাদের থাকে না। অথচ পারিবারিক বিরোধের মুহূর্তে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ থাকতেই পারে। অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক চাপ, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেও বিরোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধ যখন মারামারি, নির্যাতন কিংবা শিশুর ওপর সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না। তখন সেখানে পরিবার, প্রতিবেশী, সমাজ এবং রাষ্ট্রÑসবার দায়িত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের কোনো ঘটনাকে ‘পারিবারিক ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের সমাজে পারিবারিক সহিংসতার অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। অনেক পরিবার সামাজিক মর্যাদা, লোকলজ্জা কিংবা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখে। ফলে সমস্যাটি সমাধান হওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। জীবননগরের ঘটনাটিও তাই শুধু আইনগত তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর পেছনের পারিবারিক ও সামাজিক কারণগুলো বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তার শারীরিক অবস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরবর্তী সময়ে মানসিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার। কারণ বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব থেকে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলেও এমন ঘটনার মানসিক অভিঘাত তার ভবিষ্যৎ জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে এবং শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়ার কথা জানিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, শিশুটিকে কীভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানো হয়েছে এবং এতে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছেÑতদন্তের মাধ্যমে তা নিরপেক্ষভাবে উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, একটি ১১ মাসের শিশুকে ঘিরে এমন ঘটনা যেন আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। পরিবারে অশান্তি হলে তার সমাধানের পথ হতে পারে আলোচনা, পরামর্শ, সামাজিক সহায়তা কিংবা প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা কিন্তু কোনো অবস্থাতেই শিশুকে তার বলি করা যায় না। একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল তার মা-বাবার দায়িত্ব নয়, এটি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। জীবননগরের আনিকা খাতুন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুকÑএটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে এই ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাই শিক্ষা নিকÑপারিবারিক কলহ যতই গভীর হোক, তার আগুন যেন কখনো একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবনে না পৌঁছায়। শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় পরিবারকে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি এমন সংকটের লক্ষণ দেখা দিলে প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দ্রুত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ