ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
শরতের আকাশে উৎসবের আমেজ। আর সেই উৎসবকে বরণ করে নিতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, কারিগরদের কর্মব্যস্ততাও তত বাড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ, খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কোথাও প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও মাটির প্রলেপ দিয়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবদেবীর অবয়ব। কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে চলছে শুকানোর প্রক্রিয়া। এরপর রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে দেয়া হবে নান্দনিক রূপ। প্রতিমা তৈরির কাজে শুধু মৃৎশিল্পীরাই নন, পরিবারের নারী ও শিশুরাও সহযোগিতা করছেন। সময়মতো প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কর্মযজ্ঞ। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে সমানতালে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবও। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেন ভক্তরা। অন্যায়, অশান্তি ও অকল্যাণ দূর হয়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হোকÑএমন প্রত্যাশাই থাকে উৎসবকে ঘিরে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ৪০ টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় রয়েছে ১৫টি মণ্ডপ। পূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রতিটি মণ্ডপে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরিবারগুলোতেও চলছে নতুন পোশাক কেনাকাটা, ঘর সাজানোসহ নানা আয়োজন। এ বছরের পঞ্জিকা অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসব ১০ অক্টোবর মহালয়া, ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব পরিমল ঘোষ কালু জানান, দুর্গাপূজাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও আলমডাঙ্গায় সম্প্রীতি ও উৎসবের আমেজে নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হবে।


