ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করা একরামুল হক মোহনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেয়া হয়েছে।
একরামুল হক মোহন বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কায়সার আলীর ছেলে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মোহনের মৃত্যুর পর চরম সংকটে পড়েছে তার পরিবার। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তার স্ত্রী। সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে ইনারুলের বয়স ১৩ বছর, মেজ মেয়ে মরিয়মের ৭ বছর এবং ছোট মেয়ে আয়েশার বয়স ৪ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। সম্প্রতি পরিবারটির দুরবস্থার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, অসহায় পরিবারটির দুরবস্থার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম ও সুযোগ-সুবিধার আওতায় পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।


