নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশের হেফাজত থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়া, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় ৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেয়ার পর পালিয়ে যাওয়া আসামি আবু সিদ্দীকও (৭০) রয়েছেন। ঘটনার পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে দর্শনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্ল্যা আরিফুল ইসলাম রাত্রীকালীন মোবাইল ডিউটি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ আবু সিদ্দীককে আটক করে। তিনি চণ্ডীপুর গ্রামের তরিবত মন্ডলের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আবু সিদ্দীককে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় নেয়ার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় সরকারি কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করা হয়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় ওই ব্যক্তিরা। ঘটনার পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া নয়টি বিভিন্ন মাপের বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করা হয়। এরপর ছিনিয়ে নেয়া আসামি আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তিরা হলেন রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ (৩৮), সেলিম উদ্দীনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (১৯), হারুন অর রশিদের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৯), সঞ্জিত হালদারের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০), সঞ্জয় হালদারের স্ত্রী কণা রাণী (২৫), খোকনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪০), সদর মণ্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) ও হরেন হালদারের ছেলে ফুলন হালদার (৩২)। তাদের সবার বাড়ি দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


