সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র গ্রামে বিয়ের আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য। সড়কপথে নয়, হেলিকপ্টারে চড়ে কনেকে বিয়ে করতে এলেন বর শাখাওয়াত হোসেন। আকাশপথে বরের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন গ্রামের বাসিন্দা ও আশপাশের এলাকার মানুষ। হেলিকপ্টার অবতরণের দৃশ্য ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র গ্রামে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। কনে রওনক জাহান পুরবী ওই গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান সেলিমের মেয়ে। আর বর শাখাওয়াত হোসেন সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুরের পুরান খালাস গ্রামের লিয়াকত মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে বরপক্ষের উদ্যোগে হেলিকপ্টারে করে বরের আগমনের ব্যবস্থা করা হয়। নির্ধারিত স্থানে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করার পরই আশপাশে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। গ্রামীণ জনপদে সচরাচর এমন আয়োজন দেখা যায় না। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি হেলিকপ্টার দেখাও হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের কাছে বাড়তি আকর্ষণ। কেউ দাঁড়িয়ে দেখেছেন হেলিকপ্টারের অবতরণ, কেউ আবার স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত ছিলেন ছবি ও ভিডিও ধারণে। মুহূর্তেই বিয়েবাড়ির আশপাশে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বরের আগমন ঘিরে গ্রামজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। ব্যক্তিগত আনন্দের একটি আয়োজন এভাবেই হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। বিয়ের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন দুই পরিবারের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। একদিকে নতুন জীবনের সূচনায় বর-কনের পরিবার ও স্বজনদের ব্যস্ততা, অন্যদিকে হেলিকপ্টার দেখতে আসা মানুষের ভিড়Ñসব মিলিয়ে শংকরচন্দ্র গ্রামে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
কনের বাবা শাহজাহান সেলিম এ আয়োজনে আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি আমন্ত্রিত অতিথি ও গ্রামবাসীকে ধন্যবাদ জানান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি বরপক্ষের উদ্দেশে রওনা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিয়ে সাধারণত দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন তৈরির উপলক্ষ। তবে শংকরচন্দ্র গ্রামের এ বিয়েতে সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আকাশপথে বরের আগমনের ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। ফলে নবদম্পতির নতুন জীবনের সূচনার দিনটি তাদের পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতেও আলাদা জায়গা করে নেয়।


