আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি নজর, প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবে বিএনপিসহ মিত্ররাও📰চুয়াডাঙ্গায় মাদকসহ আটক ৩ জনকে জেল-জরিমানা📰উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক বৈষম্য থাকা উচিত নয়: এমপি রুহুল📰দর্শনায় যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুজন আহত📰চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে শাহজাহান মুকুল সম্পাদক পদে আব্দুল মজিদ📰সবাই মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে: এমপি রাসেল📰জীবননগরে ৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ📰চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা লুট📰আলমডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান গ্রেফতার-৫📰শিশুদের নিরাপত্তায় সবাইকে দায়িত্বশীল ও সাবধান থাকার আহ্বান
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগস্বপ্ন বুকে নিয়ে ইরাকে, দেশে ফিরলেন নিথর দেহে

স্বপ্ন বুকে নিয়ে ইরাকে, দেশে ফিরলেন নিথর দেহে




জীবননগর অফিস:

স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আট বছর আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামের যুবক রেজাউল ইসলাম (৩০)। প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে উপার্জন করা টাকায় দেশে গড়ে তুলেছিলেন পাকা বাড়ি। স্বপ্ন ছিল, এবার দেশে ফিরবেন, বসবেন বিয়ের পিঁড়িতে, শুরু করবেন নতুন সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসের মাটিতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে ২৫ দিন পর নিথর দেহে ফিরলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজাউলের মরদেহবাহী গাড়ি মৃগমারী গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারিতে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যে বাড়িতে কিছুদিন পর বিয়ের আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি চলার কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আল-মনসুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করছিলেন রেজাউল ইসলাম। এ সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। রেজাউলের স্বজনেরা জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় আট বছর আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার পাতার পরিকল্পনাও করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এর আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রেজাউলের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগে। অবশেষে মৃত্যুর প্রায় ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় মানুষটির নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।
গ্রামবাসীরা জানান, রেজাউল ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা। পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বছরের পর বছর প্রবাসে শ্রম দিয়েছেন। তার উপার্জনের টাকায় গড়ে উঠেছে স্বপ্নের পাকা বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে, নেই শুধু বাড়িটি ঘিরে স্বপ্ন দেখা মানুষটি। রেজাউলের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে মৃগমারী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে যিনি হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তার নিজের গড়া ঘরেই ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ