আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগভ্যান চুরির পর রাস্তার দিকে তাকিয়ে আসাদুল

ভ্যান চুরির পর রাস্তার দিকে তাকিয়ে আসাদুল




আলমডাঙ্গা থেকে আলামিন হোসেন:

বাড়িতে খাবার নেই। নেই আয়ের কোনো পথও। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আসাদুল হক। সারাদিন পাখি ভ্যান চালিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়েই চলত তার পাঁচ সদস্যের সংসার। কিন্তু সেই একমাত্র সম্বলটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর যেন থমকে গেছে তাঁর জীবন। এখন চুরি যাওয়া ভ্যানটির আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। আর বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছেলে জীবনকে পাশে নিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করেনÑএই বুঝি কেউ তার হারিয়ে যাওয়া ভ্যানটি ফিরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের। অসহায় আসাদুল হকের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের একজন প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় ভ্যানটি হারিয়ে তিনি এখন চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। একদিকে সংসারের নিত্যদিনের খরচ, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী সন্তানের দেখভালÑসব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারটির।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে আসাদুলের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে আলমডাঙ্গার কয়েকজন তরুণ তাকে একটি পাখি ভ্যান উপহার দিয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ভ্যান চালিয়ে আসাদুল যেন নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এবং ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে না হয়। সেই ভ্যানটিই ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন। আসাদুল হক বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেলগাছি গ্রামে মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি এসে তাঁর ভ্যানটি নিয়ে যান। দিনের বেলায় ঘটনাটি ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি তিনি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন আলমডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ভ্যানটির সন্ধান মেলেনি। সময় যত গড়াচ্ছে, ভ্যানটি ফিরে পাওয়ার আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবু অপেক্ষা থামেনি আসাদুলের। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই তিনি খোঁজ করছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আসাদুল হক বলেন, সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় করতাম, তা দিয়েই সংসার চলত। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে প্রতিবন্ধী, তার নাম জীবন। সংসারে আমি একমাত্র উপার্জনকারী। ভ্যানটিই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। সেটিও চুরি হয়ে গেল। তিনি বলেন, এখন বাড়িতে খাবার নেই। কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। সারাক্ষণ রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি, এই বুঝি আমার ভ্যানটা কেউ ফিরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।
আসাদুলের এই দুর্দশার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে শুকনা খাবার ও নগদ ৩ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়। তবে সেই সহায়তাও শেষ হয়ে গেছে। ফলে আবারও খাবার ও জীবিকার সংকটে পড়েছে পরিবারটি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার সভাপতি আল আমিন হোসেন পরশ বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আসাদুল হকের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস পাখি ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের একজন সদস্য প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসাদুল হককে একটি নতুন পাখি ভ্যান দেয়া হলে তার পরিবারের জীবিকার পথ আবার সচল হতে পারে। এতে অসহায় পরিবারটির মুখেও হাসি ফিরবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আসাদুলের চুরি যাওয়া ভ্যানটি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি তাঁর অসহায় পরিবারটির পাশে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসবে। কারণ ভ্যানটি ফিরে পাওয়া কিংবা নতুন করে জীবিকার একটি ব্যবস্থা হওয়াÑদুটির যেকোনো একটি উদ্যোগই আসাদুলের পরিবারকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বড় সহায়তা করতে পারে। চুরি যাওয়া ভ্যানটির অপেক্ষায় থাকা আসাদুলের চোখে এখনো সেই আশাটুকু আছে। হয়তো কোনো একদিন তার হারিয়ে যাওয়া ভ্যানটি ফিরে আসবে। আবার ভ্যানের হাতল ধরে রাস্তায় নামবেন তিনি, আর সেই আয়েই ফিরবে পাঁচ সদস্যের সংসারের স্বস্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ