দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামে ১৪ বছরের এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ পালিয়ে গেলেও পণ্ড হয়ে যায় বাল্যবিবাহের আয়োজন। এ ঘটনায় বিয়ে আয়োজনে সহযোগিতা করার দায়ে কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়ুলগাছি গ্রামে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মিমের (ছদ্মনাম) বিয়ের আয়োজনের খবর পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। পরে তিনি সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে প্রশাসনের অভিযানের সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপে কিশোরীটি অসুস্থ বোধ করে। পরে তাকে দ্রুত দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো এবং সে সুস্থ আছে বলে জানা গেছে। পরে বাল্যবিবাহের আয়োজন ও এতে সহযোগিতা করার অভিযোগে কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানে বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্যাশিশুর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে না দেয়ার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো অপরাধ প্রতিরোধে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


