আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজখেলাধুলাচুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে আলমডাঙ্গার বাজিমাত

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে আলমডাঙ্গার বাজিমাত




নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢোল-বাদ্যের তালে গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস। মাঠে একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে। সেখানেও টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল। গতকাল শনিবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে (পুরোনো স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনাল। ফাইনাল ঘিরে দুপুরের পর থেকেই মাঠে আসতে শুরু করেন দর্শকেরা। একপর্যায়ে মাঠের চারপাশ ভরে যায় ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়ে। করতালি, উল্লাস আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। এক দল আক্রমণে উঠলে অন্য দল দ্রুত পাল্টা আক্রমণে জবাব দেয়। গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই বল জালে জড়াতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে আলমডাঙ্গা উপজেলা দল ৪-৩ গোলে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে। কাক্সিক্ষত জয় পেয়ে মাঠেই উল্লাসে মেতে ওঠেন আলমডাঙ্গার খেলোয়াড়েরা। তাদের সঙ্গে আনন্দে যোগ দেন সমর্থকেরাও। ফাইনাল শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, মাঠে উপচে পড়া দর্শকের উপস্থিতিই প্রমাণ করে চুয়াডাঙ্গার মানুষ ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন। খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক, স্মার্টফোনের অপব্যবহার ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপÑউভয় দলই ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে চুয়াডাঙ্গার তরুণেরা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব করবেÑএমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, গ্রামবাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। একসময় চুয়াডাঙ্গার ফুটবলের খ্যাতি দেশের সীমানা পেরিয়ে ওপার বাংলাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে মাঠে মাঠে নিয়মিত ফুটবল আয়োজন প্রয়োজন। এ ধরনের টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে আবারও ভালো ফুটবলার তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার টুর্নামেন্ট সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও চুয়াডাঙ্গার ক্রীড়াঙ্গনকে সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন আলমডাঙ্গা উপজেলা এবং রানার্সআপ চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন। শুধু ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না এবারের আয়োজন। টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার সাবেক কৃতি ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকদের সম্মাননা দেয়া হয়। এতে একদিকে যেমন সাবেক খেলোয়াড়দের অবদান স্মরণ করা হয়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সামনে জেলার ফুটবল-ঐতিহ্যের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজী ও জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহরের যৌথ উদ্যোগে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয় প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক হায়দার আলী জোয়ার্দ্দার, সাবেক ফুটবলার মোজাম্মেল হক, নুরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ তোতা মিয়া এবং আশরাফ জোয়ার্দ্দার সাবুকে। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন সাবেক কৃতি ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন ও কানাডাপ্রবাসী কৃতি ফুটবলার মামুন জোয়ার্দ্দার। এছাড়া সাবেক ফুটবলার সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, আবুল কালাম আজাদ, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, শহিদুল ইসলাম কদর জোয়ার্দ্দার, শেখ শরিফুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন পিনা, নাজমুল হক শান্তি, খন্দকার আমিরুল ইসলাম বাবলু, রিয়াসাদ শামীম জোয়ার্দ্দার আবির, মিজানুর রহমান মানিক ও রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজাকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ডিএফএর সভাপতি একলাস উদ্দিন সুজন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী মামুনুজ্জামান আদুন, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ইমরান মহলদার রিন্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মন্ডল, জীবননগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শাহাজাহান কবীর ও দামুড়হুদা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুব রহমান বাচ্চু। টুর্নামেন্টে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা দেয়া হয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজীকেও।
টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ক্রীড়া সংগঠকের পক্ষ থেকে একাধিক আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সর্বোচ্চ গোলদাতা, ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট, সেরা স্ট্রাইকার, সেরা গোলরক্ষক, উদীয়মান খেলোয়াড়, সেরা ডিফেন্ডার, সেরা মিডফিল্ডার ও ম্যান অব দ্য ফাইনালসহ বিভিন্ন বিভাগে এসব পুরস্কার দেয়া হয়। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচকেও আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়। ফাইনালসহ পুরো টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে উৎসাহিত করতে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যক্তিদের এমন উদ্যোগ দর্শকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফাইনাল দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সাবেক কৃতি ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকেরা। তাদের মধ্যে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহরিন হক মালিক, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা, সাবেক ফুটবলার মাহমুদুল হক লিটন, সরোয়ার হোসেন জোয়ার্দ্দার মধু, শেখ শরিফুল ইসলাম, নাজমুল হক শান্তি, সাবেক কৃতি গোলরক্ষক রবিউল ইসলাম মল্লিক, মিজানুর রহমান মানিক, আইয়ুব হোসেন, টিপু সুলতান, বাবু মুন্সী ও শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দারসহ অনেকে। এছাড়া আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদার ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন, আলমডাঙ্গার ইউএনও শাহিনুর আক্তার, জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানী, আরডিসি এসএম আসিফ মমতাজ, এনডিসি আলাউদ্দিন আল আজাদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি সাজ্জাদ হোসেন। সহকারী রেফারি ছিলেন শফিকুন নবী রিয়ান ও লিটা হোসেন। চতুর্থ কর্মকর্তা ছিলেন ইমাম হোসেন এবং ম্যাচ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা। খেলার ধারাবিবরণী দেন ইসলাম রকিব ও শামীম খান।
হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস, মাঠের উত্তেজনা, সাবেক খেলোয়াড়দের সম্মাননা এবং নতুনদের উৎসাহÑসব মিলিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার সবচেয়ে বড় ফুটবল আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপের পর্দা নামে। ফাইনালের শেষ বাঁশির পরও দীর্ঘ সময় মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও ফুটবল নিয়ে নতুন প্রত্যাশার আলোচনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ