দামুড়হুদা অফিস:
মহাসড়কে ইজিবাইক আটকানো ও জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালকেরা। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচল। ভোগান্তিতে পড়েন অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। এদিকে, দামুড়হুদায় ইজিবাইক চালকদের বিরুদ্ধে লোকাল বাসের শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ধর্মঘটটি অনির্দিষ্টকালের জন্য হতে পারে বলেও একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। তবে ধর্মঘটের বিষয়ে লোকাল বাস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
চালকদের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে দামুড়হুদার ফকিরপাড়া এলাকায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে দামুড়হুদা থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রাখে। ওই এলাকায় বিভিন্ন সময় ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়। পরে তাদের চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইজিবাইকে তুলে দেয়া হয়। ইজিবাইক চালকেরা বলেন, ব্যারিকেডের বাইরে মহাসড়কে ইজিবাইক নিয়ে চলাচল করলে বিভিন্ন সময় তাদের গাড়ি আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ২ হাজার ৬৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে হয়। এছাড়া গাড়ি আটকের সময় কোনো কোনো চালককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসবের প্রতিবাদে এবং ফকিরপাড়া এলাকার ব্যারিকেড তুলে দিয়ে ইজিবাইক চলাচলের সুযোগ দেয়ার দাবিতে গতকাল রবিবার সকালে বিক্ষোভে নামেন চালকেরা। সকাল ১০টার দিকে শতাধিক ইজিবাইক দামুড়হুদা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে রেখে চালকেরা সেখানে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে সড়কের ওপর ইজিবাইক রেখে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগরসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষও ভোগান্তিতে পড়েন। অবরোধকারীদের প্রধান দাবি ছিল, ফকিরপাড়া এলাকায় ইজিবাইক আটকানোর জন্য দেয়া ব্যারিকেড তুলে নিতে হবে এবং তাদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ইজিবাইক পৌর এলাকার বাইরে চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কে চলাচলকারী লেগুনা বন্ধের দাবিও জানান তারা। এ সময় তারা ফকিরপাড়ায় বাস মালিক সমিতির লাঠিয়াল বাহিনী তুলে দেয়ার দাবি জানান। তারা আরও বলেন, আমরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে চায়। যাত্রীরা যদি বাসে চলতে চায় তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তারা যদি ইজিবাইকে চলাফেরা করতে চাই আর সেটা যদি বাস মালিক সমিতির ওই লাঠিয়াল বাহিনী বাঁধা দেয় তাহলে আমরা মেনে নেব না। অবিলম্বে এসব বাঁধা দূর করতে হবে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদারকি) প্রভাষ কুমার বসু, এসআই উত্তম ও এসআই প্রদীপ ঘটনাস্থলে যান। তারা চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন চালকেরা। ফলে পুলিশের চেষ্টার পরও তাৎক্ষণিকভাবে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনুও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যারিকেড তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর চালকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর দুপুর আড়াইটার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে দামুড়হুদা ইউএনও অফিসে ইজিবাইক চালকদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন ইজিবাইক চালকদের দাবির কথা শোনেন। পরবর্তীতে দাবিগুলো নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ইজিবাইক চালকের সাথে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আপাতত ইজিবাইক চালকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের দাবিগুলো শুনেছি। দাবিগুলো ইজিবাইক চালক ও বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
এদিকে, দামুড়হুদায় ইজিবাইক চালকদের বিরুদ্ধে লোকাল বাসের শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ধর্মঘটটি অনির্দিষ্টকালের জন্য হতে পারে বলেও একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। তবে ধর্মঘটের বিষয়ে লোকাল বাস শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
দামুড়হুদার ফকিরপাড়ায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখি ভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাসের শ্রমিকদের বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার সকাল থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বাসের শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লোকাল বাস শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে শ্রমিকদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মঘট শুরু হলে দামুড়হুদা ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার ঘটনা, ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত এবং এর মেয়াদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ধর্মঘটের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


