আজ ,,
,

শিরোনামঃ
📰একক প্রস্তুতি জামায়াতের , এনসিপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার শঙ্কা📰দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলে রাখায় রহস্য ঘনীভূত📰আলমডাঙ্গার প্রাপগপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দু’পক্ষের আহত ৭ 📰চুয়াডাঙ্গায় নজরুল উৎসবের পঞ্চম দিনে মঞ্চস্থ রিক্তের বেদন📰চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে গৃহবধূকে আহত করে সোনার চেইন ছিনতাই📰আলমডাঙ্গা পরোয়ানাভুক্ত নারীসহ ৪ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার📰দর্শনায় কাঠ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখমের অভিযোগ📰চুয়াডাঙ্গায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত📰দামুড়হুদায় বুলডেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো দুই অবৈধ ইটভাটা📰মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১৪ বছরেও ফেরেননি গাংনীর নিখোঁজ চারজন
হোম পেজদেশের খবরখুলনা বিভাগমাটির কাঠামো পেরিয়ে দেবীর পূর্ণ রূপের অপেক্ষা, আলোর মালায় সাজছে মণ্ডপ

মাটির কাঠামো পেরিয়ে দেবীর পূর্ণ রূপের অপেক্ষা, আলোর মালায় সাজছে মণ্ডপ




শেখ লিটন:

দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শরতের আগমনী বার্তা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে। কোথাও প্রতিমার গায়ে পড়ছে রঙের শেষ প্রলেপ, কোথাও চলছে প্যান্ডেল সাজানোর কাজ। মণ্ডপজুড়ে ঝুলছে আলোকসজ্জার সরঞ্জাম। কারিগরদের ব্যস্ততা আর আয়োজকদের ছোটাছুটিতে ইতোমধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এবার চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় ১১৬টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৩টি, আলমডাঙ্গায় ৩৯টি, দামুড়হুদায় ২০টি এবং জীবননগরে ২৪টি মন্দির রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। বড় বাজার শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে প্রতিমার গায়ে রঙের প্রলেপ দিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অবয়ব। প্রতিমার সাজসজ্জার পাশাপাশি মন্দিরের চারপাশে চলছে আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। প্যান্ডেল ডেকোরেশনের কাজেও বেড়েছে ব্যস্ততা। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের মালোপাড়া দুর্গামন্দির, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ মাঠপাড়া বারোয়ারী দুর্গামন্দির, সত্যনারায়ণ মন্দির ও তালতলা দুর্গামন্দিরে। কোথাও প্যান্ডেলের কাঠামোতে কাপড় ও নকশা বসানো হচ্ছে, কোথাও আলোর মালা টাঙানোর কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ।
প্রতিমা নির্মাণের কারিগর উত্তম পাল বলেন, প্রতিবছরই প্রতিমার মধ্যে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও চাহিদা অনুযায়ী এবারও কাজ করছি। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা আগেভাগেই কাজ শুরু করেছি। দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়া বারোয়ারী দুর্গামন্দিরের কোষাধ্যক্ষ অঞ্জন সাহা আবির বলেন, প্রতিমা নির্মাণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে পূজার আবহ তৈরি হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও বাড়ছে। মহাষষ্ঠী থেকে মূল পূজা শুরু হবে। পূজার সব আয়োজন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
পূজার আয়োজন ঘিরে শুধু মণ্ডপেই নয়, জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাতেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী হারাধন চন্দ্র রায় বলেন, পূজা সামনে রেখে পূজামণ্ডপগুলোতে বাড়ছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। এর সঙ্গে সাউন্ড ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সুমিতা দে বলেন, পূজাকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়। মাটির কাঠামোয় দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এখন সেই উৎসবের অপেক্ষায় জেলার পূজামণ্ডপগুলো।
এবারের দুর্গাপূজায় রয়েছে তিথিগত বিশেষত্ব। সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছয় দিনজুড়ে চলবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং বিজয়া দশমীতে গমন হবে নৌকায়। প্রচলিত পঞ্জিকা মতে, ঘোটকে দেবীর আগমনকে ‘ছত্রভঙ্গ’ এবং নৌকায় গমনকে শস্য ও জলবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। সপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও পূজা, অষ্টমীতে মহাষ্টমীর পূজা, অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা এবং নবমীতে মহানবমীর পূজা ও হোম অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে পূজা সমাপনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্যাপনের প্রধান সমন্বয়ক হেমন্তু কুমার সিংহ রায় বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমায় রঙের কাজ চলছে। প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। সবাই যেন সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এবার দুর্গাপূজা উদ্যাপন করা হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে জেলা পুলিশও আশ্বস্ত করেছে পূজা উদ্যাপনকারীদের। জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।
পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপগুলোর ব্যস্ততা। প্রতিমার রং, প্যান্ডেলের সাজ, আলোর ঝলকানি আর নিরাপত্তার প্রস্তুতিতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে আয়োজন। এখন অপেক্ষা শুধু দেবীর আগমনের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ