আজ ,,
,

শিরোনামঃ
হোম পেজশিক্ষাদামুড়হুদায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ

দামুড়হুদায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ




কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি:

দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামে অন্য শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার কারণে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক কোচিংশিক্ষকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে গ্রামের সৃজনশীল প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আহত ছাত্রী জয়াকে (১১) দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জুয়েল রানা বাবু (৩০)। তিনি মোক্তারপুর গ্রামের ফকির মোহাম্মদের ছেলে। তিনি কার্পাসডাঙ্গা ইনসাইড ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির শিক্ষক এবং পাশাপাশি সৃজনশীল প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পড়ান। ভুক্তভোগী জয়া খাতুন একই গ্রামের জাবের আলীর মেয়ে। সে মোক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শ্রেণিতে তার রোল নম্বর ১। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে জুয়েল রানা বাবুর কাছে প্রাইভেট পড়ত জয়া। সামনে বৃত্তি পরীক্ষা থাকায় ভালো ফলের আশায় তার বাবা তাকে অন্য এক শিক্ষকের কাছেও পড়ানোর ব্যবস্থা করেন। এতে জুয়েলের কোচিং সেন্টার থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য জায়গায় পড়তে শুরু করে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জুয়েল জয়ার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ পরিবারের।
জয়া খাতুনের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তার পিঠ ও হাতে আঘাত করেন। একপর্যায়ে ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে থাকে সে। পরে বাড়িতে ফিরে অজ্ঞান হয়ে যায় জয়া। তার মা-বাবা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরিবারের দাবি, পিঠ ও হাতে ছয়টি স্থানে রক্তাক্ত ও ফুলে যাওয়া জখম ছিল। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
জয়ার বাবা জাবের আলী বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে মেয়েকে সৃজনশীল কোচিং সেন্টারে জুয়েল রানার কাছে পড়তে দিয়েছি। আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রথম রোল নম্বর অর্জন করেছে। সামনে বৃত্তি পরীক্ষা, ভালো ফল করে বৃত্তি পাওয়ার আশায় তাকে আরেকজন শিক্ষকের কাছেও পড়তে দিয়েছি। এ কারণে আমার মেয়ের ওপর এভাবে নির্যাতন করা হবে, তা কখনো ভাবিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একটি শিশুকে এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীর ভুল হলে শিক্ষক তাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন, প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু এভাবে শারীরিক নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক জুয়েল রানা বাবু বলেন, আমি জয়া খাতুনকে নিজের আপন ভাইয়ের মেয়ের মতো দেখি। তাকে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর জন্য শাসন করেছি। তবে একটু বেশি মারধর করে ফেলেছি। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ছাত্রীর বাবা আমাকে ফোন করেছিলেন। তার কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তদন্ত করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ সংবাদ