জীবননগর অফিস:
শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ২২২টি পূজামণ্ডপে প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সিংনগর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ তথ্যের কথা জানান বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
পরিদর্শনকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম তার সাথে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রিজিয়ন কমান্ডার পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ফলের ডালা এবং নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান জানান, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষ্যে যশোর রিজিয়ন ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই উৎসব যেন আনন্দঘন ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সতর্ক ও তৎপর থাকবে।
নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিশদ বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, উৎসবের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর যশোর রিজিয়নের বিজিবি ইউনিটগুলোর মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রেকি সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর রিজিয়নের প্রায় ২ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ৬টি জেলার ৩৭টি উপজেলার ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট ২২২টি পূজামণ্ডপে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প থেকে বিজিবি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে রিজিয়ন কমান্ডার স্পষ্ট করে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই শারদীয় দুর্গাপূজায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বস্তরের নাগরিক, পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


