নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানুষের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার প্রকৃত পরিচয়। দূর প্রবাসে থেকেও দেশের অসহায় মানুষের কষ্ট ভুলে যাননি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের কানাডা প্রবাসী নাজমুল ইসলাম। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী অথৈ খাতুনের চিকিৎসার জন্য ৩২ হাজার টাকা এবং গুরুতর অসুস্থ স্বপ্না খাতুনের চিকিৎসার জন্য ৬ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। তার এই সহযোগিতা অসহায় দুটি পরিবারের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার নাজমুলের কুলপালার গ্রামের বাড়ি থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অথৈ খাতুন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী গ্রামের পিতৃহারা রজনী খাতুনের মেয়ে। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই অথৈর জীবনে নেমে এসেছে কঠিন অসুস্থতার অন্ধকার। যে বয়সে বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটানো আর স্বপ্নের পৃথিবী গড়ে তোলার কথা, সেই বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে দুরারোগ্য কিডনী সমস্যার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে তার দুটি কিডনী সমস্যায় আক্রান্ত। নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। মেয়েকে সুস্থ করে তোলার আশায় মা রজনী খাতুন নিজের সর্বস্ব দিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা করেছেন। সহায়-সম্বল বিক্রি করেও মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। একদিকে মেয়ের অসহনীয় অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল খরচ সব মিলিয়ে অসহায় এই মায়ের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকভরা কষ্ট নিয়ে মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। অথৈর এই অসহায়ত্বের খবর পৌঁছে যায় কুলপালা গ্রামের কানাডা প্রবাসী নাজমুল ইসলামের কাছে। দূর দেশে থেকেও অসুস্থ শিশুটির কষ্ট তাকে ব্যথিত করে। মানবিক বিবেকের তাগিদে তিনি অথৈর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তার পক্ষ থেকে বাবার মাধ্যমে অসুস্থ অথৈর হাতে চিকিৎসার জন্য ৩২ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে কুলপালা গ্রামের গুরুতর অসুস্থ স্বপ্না খাতুনের চিকিৎসার জন্য দেয়া হয় আরও ৬ হাজার টাকা। নাজমুল ইসলাম কুলপালা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও নার্গিস বেগমের ছেলে। নাজমুল কানাডায় অবস্থান করলেও নিজ এলাকার অসহায় মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এই দৃষ্টান্ত প্রশংসার দাবি রাখে।
অর্থের অঙ্কে এই সহায়তা হয়তো অনেকের কাছে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু অসহায় একটি পরিবারের কাছে এটি অনেক বড় ভরসা। যে মা মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন, তার কাছে এই অর্থ নতুন করে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সাহস। আর অসুস্থ স্বপ্না খাতুনের পরিবারের কাছেও এই সহযোগিতা কঠিন সময়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা বলে জানান অথৈর মা রজনী খাতুন।
অথৈর পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের হৃদয়বান মানুষ ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা সহজ হবে। একটি শিশুর জীবন, তার ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।


