আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর জান্নাতুল খাতুন (১৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফিরোজা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া চিকিৎসক না থাকা ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগে শহরের কলেজপাড়ার লোকমান ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আক্তার।
জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকালে অন্তঃসত্ত্বা জান্নাতুল খাতুনকে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের আনন্দধাম এলাকার ফিরোজা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক নজরুল ইসলাম। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর জান্নাতুলের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একপর্যায়ে তার পেট ফুলে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। পরে অক্সিজেন দিয়ে তাকে ক্লিনিকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মঙ্গলবার ভোরে রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কুষ্টিয়ায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার পর সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। প্রসূতির মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে ফিরোজা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালান ইউএনও শাহিনুর আক্তার। এ সময় ক্লিনিকটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং এর অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ.এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সবুজ রানা।
অভিযান শেষে ইউএনও শাহিনুর আক্তার জানান, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ফিরোজা ক্লিনিককে জরিমানা করার পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া লোকমান ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে চিকিৎসক না থাকা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লুৎফর রহমানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


