নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও কর্মী সমাবেশ করেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। এসব কর্মসূচিতে তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র স্কুলপাড়ার বাসিন্দা ও জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকা আনোয়ার হোসেন ইংরেজের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে যান সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। পরে বিকেল চারটার দিকে সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে কর্মী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া গ্রামেও বিশেষ কর্মী সমাবেশে যোগ দেন তিনি।
আলুকদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং এলাকার মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোট ও আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম দায়িত্ব। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য সেবা পান। তিনি আরও বলেন, দেশের চলমান বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে গঠনমূলক উদ্যোগ নিতে হবে। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে গণসংযোগ বাড়াতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যুক্তি, শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ ও কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা জামায়াতের আমির মাওলানা বিলাল হুসাইন, সেক্রেটারি গোলাম রসুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেনউজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, থানা অফিস সহায়ক আশির উদ্দিন এবং আলুকদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মতিয়ার রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের প্রশিক্ষণ বিভাগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ শাকিল হোসেন নয়ন, ইউনিয়ন অর্থ সম্পাদক মাহাবুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মান্নান হুজুর, প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি নুর আলম, যুব বিভাগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি রতন হোসেন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা জালাল উদ্দীন, মহিবুল ইসলাম, তৌহিদ হোসেন, আফসার হোসেন, লিটন, মারুফ, আকাশ ও আকিমুলসহ জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
সভা শেষে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আলুকদিয়া ও আকুন্দবাড়ী গ্রামে গণসংযোগ করেন সংসদ সদস্য। এ সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
একই দিন আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সমাবেশে আলমডাঙ্গা উপজেলা, পৌরসভা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নেতা-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানো, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ পারভেজ রাসেল স্থানীয় মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমাবেশে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দুই উপজেলার এসব কর্মসূচিতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়।


