দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদায় নৈশ টহল ও দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ সদস্যকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মারুফ হোসেনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিনগত রাত দুইটার দিকে জেলার দর্শনা থানার উজলপুর গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গ্রেপ্তার মারুফ হোসেন দর্শনার জয়নগর কাস্টমপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ ওরফে জাম্বুর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর বিভিন্ন ধারায় মোট নয়টি মামলার তথ্য রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২২ অক্টোবর রাত আটটার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শামসুর রহমান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নৈশ টহলে বের হন। রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে দামুড়হুদা থানার লোকনাথপুর গ্রামে ফায়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে ‘ছোট পোল’ নামের স্থানে মহাসড়কের পাকা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা। এ সময় লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী একটি মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া গতিতে আসতে দেখে থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলচালক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কর্তব্যরত কনস্টেবল আলমগীর হোসেনকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে আলমগীরের মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে মোটরসাইকেলচালক লাল-কালো রঙের হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যান। মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন নম্বর চুয়াডাঙ্গা-হ-১৪-৯৭০৫। পুলিশ ২৩ অক্টোবর রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে মোটরসাইকেলটি বিধি অনুযায়ী জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। আহত কনস্টেবল আলমগীর হোসেনকে প্রথমে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১৪। দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩০৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মারুফ হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


