দামুড়হুদা অফিস:
দামুড়হুদায় এক সার ডিলারের গোডাউন থেকে প্রায় দেড় হাজার বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার হাউলি মোড় এলাকায় নাঈম অটোমোবাইল ও বীজ ভান্ডারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। অভিযানের পর গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে টিএসপি ৩৭০ বস্তা, ডিএপি ১ হাজার ১২০ বস্তা এবং এমওপি ১০ বস্তা। উপজেলা কৃষি অফিসের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হলেও গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার মজুত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নাঈম অটোমোবাইল ও বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী নাঈম উদ্দীন নাঈম দামুড়হুদা উপজেলার মৃত মফিজুল ইসলাম ওরফে মফির ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার। চলতি মাসে তার নামে সরকারি হিসাবে বরাদ্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ শেষ হয়েছে বলে নথিপত্রে উল্লেখ ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খোঁজ নিয়ে নতুন হাউলি গ্রামে তার গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার মজুত থাকার তথ্য পায় কৃষি বিভাগ। এরপর দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা সরকারের নেতৃত্বে গোডাউনটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার পাওয়া গেলে সেগুলো জব্দ করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন। তার নির্দেশে জব্দ করা সারসহ গোডাউনটি সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা সরকার বলেন, আমরা জানতে পারি, নাঈম অটোমোবাইল ও বীজ ভান্ডারের গোডাউনে সার মজুত আছে। পরে হাউলি গ্রামের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা টিএসপি ৩৭০, ডিএপি ১ হাজার ১২০ ও এমওপি ১০ বস্তাসহ মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। গোডাউন সিলগালা এবং নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিয়াবুল ইসলাম, এসআই উত্তম কুমারসহ পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জব্দ করা সার এবং অবৈধভাবে সার মজুতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রশাসন আরও জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে অবৈধভাবে সার মজুত ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


